সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল-newsedge4

২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। তার একজন সহকর্মী পদত্যাগের খসড়া তৈরি করেছিলেন। কিন্তু গোয়েন্দা তৎপরতা ও সরকারি চাপে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন তিনি। বিভিন্ন সূত্রে এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

সাবেক সিইসি ২০২৪-এর ৭ জানুয়ারি নির্বাচনকে ‘ডামি ও প্রহসনের’ বলে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “ওই অবস্থায় পদত্যাগ করা সম্ভব ছিল না। যদি আগে বলতা এমন ভয়ংকর নির্বাচন হবে, তাহলে দায়িত্বই নিতাম না।” এই স্বীকারোক্তি ২০২৫ সালের জুন মাসে এক বিচারকার্যে আসে, যেখানে তিনি রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন।

পদত্যাগের চেষ্টা ও সরকারি চাপের ঘটনা প্রথম প্রকাশ পায় দেশের জাতীয় দৈনিক মানবজমিনের তদন্ত প্রতিবেদনে। সূত্র অনুসারে, হাবিবুল আউয়াল ২০২৩ সালের শেষভাগে পদত্যাগের খসড়া তৈরি করেন। খবরটি গোয়েন্দা মারফত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছে যায়। এরপর তাঁর ওপর নানাভাবে চাপ তৈরি হয়। দেখানো হয় ভয়ভীতি—জীবনে করুণ পরিণতি নেমে আসার হুমকি। শেষ পর্যন্ত আতঙ্কিত হাবিবুল আউয়াল পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।

একজন সম্পাদকের সঙ্গে তার বৈঠকেও তিনি বলেছিলেন, “আমার তো ইচ্ছা পদত্যাগ করে চলে যাই। কিন্তু পদত্যাগ করা তো সহজ হবে না।” পরে বিদেশে ছুটিতে যাওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন, কিন্তু সেখানেও বাধা দেওয়া হয়। বিমানবন্দরে সতর্কতা জারি করা হয় যাতে দেশত্যাগ না করতে পারেন।

হাবিবুল আউয়াল বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। ২০১৮-এর নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী সাবেক সিইসি কে এম নুরুল হুদাও কারাগারে। ২০২৪-এর নির্বাচনকে ‘জালিয়াতি ও প্রহসন’ বলে স্বীকার করে পদত্যাগ করেন হাবিবুল আউয়াল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *