অপরাজেয় বেগম খালেদা জিয়া-নাগরিক শোকসভা-newsedge4

প্রয়াত তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে আজ বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘অপরাজেয় বেগম খালেদা জিয়া’ শীর্ষক নাগরিক শোকসভা। শোকসভায় বিশিষ্টজনেরা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উদারতা, সহনশীলতা ও প্রতিহিংসাহীন মনোভাবকে দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরে দেশের রাজনীতিকে এই পথে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমানসহ জিয়া পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, সেলিমা রহমান, সালাহউদ্দিন আহমদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শোকসভায় বক্তারা খালেদা জিয়াকে প্রতিহিংসার বিরুদ্ধে উজ্জ্বল বাতিঘর হিসেবে আখ্যায়িত করেন। লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, উত্থানপর্বে দলকে বিপর্যয় থেকে উদ্ধার করা, সরকার পরিচালনা এবং পরবর্তীকালে নিপীড়ন সহ্য করার মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া আপসহীনতা ও সহানুভূতির প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তাঁর শেষ বাণী প্রতিহিংসা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, বিগত সরকারের নিপীড়ন, হাউজ অ্যারেস্ট ও চিকিৎসায় অবহেলা সত্ত্বেও ৭ আগস্টের বাণীতে খালেদা জিয়া উদারতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এই মানসিকতা ধারণ করতে পারলে আগামীর বাংলাদেশ ভিন্নরূপ লাভ করবে।

যায়যায় দিনের সম্পাদক শফিক রেহমান বলেন, গৃহবধূ থেকে গণতন্ত্রের লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে ওঠা খালেদা জিয়া আমৃত্যু গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছেন। তিনি ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সফল করার আহ্বান জানান। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার মাধ্যমেই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে এবং ভোট বানচালের যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, খালেদা জিয়া বন্দি ও অসুস্থ অবস্থায়ও কথা বলার কেউ ছিল না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁরা খালেদা জিয়াকে সবার কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। দেশ ভালো রাখতে খালেদা জিয়ার আদর্শ ধারণ করতে হবে।

নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, খালেদা জিয়া শুধু একটি দলের নেত্রী ছিলেন না, তিনি সত্যিকার অর্থে দেশ ও মানুষের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন—যা লাখ লাখ মানুষের জানাজায় অংশগ্রহণে প্রমাণিত।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসকদলের প্রধান অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাননি। এই ইচ্ছাকৃত অবহেলা (উইলফুল নেগলিনেন্স) তাঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। এটি অমার্জনীয় অপরাধ এবং তদন্তের দাবি জানান তিনি।

আরও পড়ুন: তিনি শুধু আমার মা ছিলেন না, সমগ্র জাতির মা ছিলেন: তারেক রহমান

শোকসভায় আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, মাহমুদুর রহমান, বাসুদেব ধর, দেবাশীষ রায়, সিমিন রহমান, এস এম এ ফায়েজ প্রমুখ। কোরআন তিলাওয়াত, শোকবার্তা পাঠ ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়। উপস্থাপনা করেন আশরাফ কায়সার ও কাজী জেসিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *