বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় এলে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের কল্যাণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি পৃথক বিভাগ গঠন করা হবে। তিনি এদেরকে একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের মতোই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাকারী যোদ্ধা হিসেবে অভিহিত করেন।

রোববার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও গুরুতর আহতদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ দলের শীর্ষ নেতারা এবং তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি আগে ক্ষমতায় থাকতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করেছিল একাত্তরের যোদ্ধাদের কল্যাণে। ঠিক তেমনি আগামীতে সরকার গঠন করলে জুলাই যোদ্ধাদের জন্য মন্ত্রণালয়টিতে আলাদা বিভাগ খোলা হবে, যাতে তাদের পরিবারের কষ্ট কিছুটা লাঘব করা যায়।

তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেড় হাজারের বেশি মানুষ শহীদ এবং প্রায় ৩০ হাজার আহত হয়েছেন। অনেকে চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন বা চোখ হারিয়েছেন। এই ত্যাগের কারণেই ফ্যাসিবাদী শাসক ক্ষমতা ছেড়ে দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছে। তিনি এ আন্দোলনকে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের নয় বরং অধিকারবঞ্চিত জনগণের গণ-আন্দোলন বলে অভিহিত করেন এবং যারা এটাকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়, তাদের প্রতি সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

আহতদের পুনর্বাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে এবং তাদের যোগ্যতা ও রাজনৈতিক অবদান অনুযায়ী অর্থনৈতিক সচ্ছলতা প্রদান করা হবে। হতাহতদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে এবং জনগণের রায়ে দায়িত্ব পেলে বিএনপি পর্যায়ক্রমে তা পূরণ করবে।

তারেক রহমান আরও বলেন, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যর্থ হলে শোকের সমাবেশ চলতেই থাকবে, কিন্তু গণতন্ত্রকামী মানুষ এবার গণতন্ত্রের বিজয়গাথা রচনা করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *