বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “আমি আপনাদেরই সন্তান, আপনাদের মাঝেই থাকতে চাই। ক্ষমতার মোহ নয়, বরং সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ও জনকল্যাণই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য।” আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর মহাখালী টিঅ্যান্ডটি মাঠে আয়োজিত এক বিশেষ দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে সম্প্রতি দেশে ফেরা বিএনপি প্রধান বলেন, রাজনীতি কেবল স্লোগান বা মিছিলের বিষয় নয়, এটি হওয়া উচিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যম। কড়াইল বস্তিবাসীসহ স্থানীয় জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান হওয়ার চেয়ে বড় পরিচয় হলো—আমি আপনাদের সন্তান। আপনাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকাই আমার অঙ্গীকার।”

বক্তব্যে তারেক রহমান বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, প্রতিশোধ বা দোষারোপের রাজনীতি দিয়ে জনগণের পেট ভরবে না। বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই হবে আগামী দিনের অগ্রাধিকার। তিনি উল্লেখ করেন, কড়াইল বস্তির মতো পিছিয়ে পড়া এলাকার শিশুদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বিএনপি কাজ করবে।

অতীত স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “আমি একসময় ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় থাকতাম। সেই বাড়ি যেভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, আমি তা ভুলিনি। সাধারণ মানুষের ঘর হারানোর বেদনা আমি নিজের জীবন দিয়ে অনুভব করি।”

তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে দেশের সাধারণ মানুষের জন্য বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও জনবান্ধব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন:

  • ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড: মা-বোনদের স্বাবলম্বী করা এবং কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এই কার্ড ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
  • আবাসন ও স্বাস্থ্য: কড়াইলবাসীদের জন্য ছোট ছোট ফ্ল্যাট নির্মাণ এবং ওই এলাকায় একটি অত্যাধুনিক ক্লিনিক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান।
  • শিক্ষা ও জনশক্তি: অন্তত এক লাখ দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং তরুণ প্রজন্মকে বিদেশি ভাষায় দক্ষ করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ব্যক্ত করেন।
  • ধর্মীয় নেতাদের সম্মাননা: মসজিদের ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য সরকারিভাবে সম্মাননী ভাতার ব্যবস্থা করার ঘোষণা দেন তিনি।

তারেক রহমান বৈষম্যমুক্ত ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, “আল্লাহ যদি তৌফিক দেন এবং আপনারা সুযোগ দেন, তবেই আমরা এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে পারব।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *