রাজধানীর মতিঝিলের পীরজঙ্গি মাজার রোডে ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাসের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান কঠোর অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্র পরিচালনায় দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সমঝোতা বা ছাড় দেওয়া হবে না।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জনসভায় তারেক রহমান বলেন, “দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, লুটপাট ও অরাজকতার শিকার। আমরা যখন ক্ষমতায় আসব, তখন এসবের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। দুর্নীতিবাজদের কোনো ছাড় নেই, আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।”
তারেকের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন বাকি। বিএনপি নেতৃত্ব মনে করছে, দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে জনগণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে। এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে দলটি ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছে। মির্জা আব্বাসের মতো দলের শীর্ষস্থানীয় নেতার আসন থেকে এ ধরনের কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে, যা দলের নির্বাচনী প্রচারণায় একটি কেন্দ্রীয় বার্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।
জনসভায় তারেক রহমান আরও বলেন, “আমরা যখন সরকার গঠন করব, তখন প্রশাসন, পুলিশ, বিচার বিভাগ—সবকিছুকে দলীয়করণমুক্ত করে স্বাধীন ও পেশাদার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে যাতে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে না থাকতে পারে।” তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা দেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
মঞ্চে উপস্থিত মির্জা আব্বাস নিজেও বক্তব্যে তারেক রহমানের এই অঙ্গীকারকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, “দেশের মানুষ এখন আর শুধু প্রতিশ্রুতি শুনতে চায় না, তারা ফল দেখতে চায়। তারেক ভাইয়ের কথা থেকে স্পষ্ট যে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে শুধু কথায় নয়, কাজে প্রমাণ করবে।”
জনসভায় উপস্থিত হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চলবে’, ‘আইনের শাসন চাই’ জাতীয় স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন। এই জনসভা ঢাকা-৮ আসনের পাশাপাশি পুরো রাজধানীতে বিএনপির শক্তি প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই বক্তব্য দলের নির্বাচনী কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিএনপি বুঝতে পেরেছে যে, শুধু সরকারবিরোধী আবেগ দিয়ে ভোট পাওয়া যাবে না; জনগণ এখন সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প চায়। দুর্নীতি ও আইনের শাসনের প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নিয়ে দলটি সেই বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করছে।



















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































