নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, জনগণের ভোটে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য জাতীয় পে-স্কেল যথাসময়ে ঘোষণা ও বাস্তবায়ন করা হবে। এ ঘোষণা নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদনের প্রেক্ষাপটে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে, যখন বর্তমান ব্যবস্থায় গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
নবম জাতীয় বেতন কমিশন গত বছরের জুলাইয়ে গঠিত হয় এবং সম্প্রতি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কমিশনের সুপারিশে সর্বনিম্ন বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। গড়ে ১০৫ শতাংশ বৃদ্ধির এই সুপারিশ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ মোকাবিলায় কর্মচারীদের জন্য একটি বড় স্বস্তির সম্ভাবনা তৈরি করেছে। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থায় উপদেষ্টারা জানিয়েছেন, পে-স্কেল বাস্তবায়নের দায়িত্ব নতুন সরকারের। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দ্রুত গেজেট ও বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
এমন প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের ভাষণে পে-স্কেল নিয়ে সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রশাসন মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চলবে, দুর্নীতিমুক্ত থাকবে এবং সরকারি কর্মচারীদের কল্যাণে কঠোর নীতি অনুসরণ করা হবে। এছাড়া ভাষণে তিনি এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বেকার ভাতাসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। পে-স্কেলের প্রতিশ্রুতি সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে যে অসন্তোষ রয়েছে, তা নিরসনে একটি রাজনৈতিক সিগন্যাল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারি কর্মচারীদের সংগঠনগুলো এই ঘোষণাকে ইতিবাচক বললেও, অনেকে বলছেন—প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচনী জয়ের পরও অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি দেখাতে হবে। কারণ নতুন স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ৮০ হাজার কোটি টাকার মতো ব্যয় হতে পারে। এই ব্যয় বহন করতে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও রাজস্ব আয় বাড়ানো জরুরি।
মূল তথ্যসমূহ:
– নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ: সর্বনিম্ন বেতন ২০,০০০ টাকা, সর্বোচ্চ ১,৬০,০০০ টাকা।
– গড় বৃদ্ধি: প্রায় ১০৫ শতাংশ।
– তারেক রহমানের ঘোষণা: বিএনপি ক্ষমতায় এলে যথাসময়ে পে-স্কেল ঘোষণা ও বাস্তবায়ন।
– ভাষণের তারিখ: ৯ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) রাতে, বাংলাদেশ টেলিভিশনে।
– নির্বাচনের তারিখ: ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার)।
– সম্ভাব্য ব্যয়: প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা।






















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































