ব্যালটে নির্ধারিত হচ্ছে আগামীর সংসদ ও সংবিধানের ভাগ্য

দীর্ঘ ১৮ মাসের প্রতীক্ষা আর রাজনৈতিক টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে আজ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিচ্ছে বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এটিই প্রথম সাধারণ নির্বাচন। একই সঙ্গে ভোটাররা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বা সংবিধান সংস্কারের ঐতিহাসিক এক গণভোটে অংশ নিচ্ছেন।

আজ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। রাজধানী থেকে শুরু করে প্রান্তিক গ্রাম—সর্বত্রই ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের তরুণ ভোটারদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যারা প্রথমবারের মতো একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের ২৯৯টি আসনে (এক প্রার্থীর মৃত্যুতে একটি স্থগিত) ভোটগ্রহণ চলছে।

ভোটের সঙ্গে চলছে ‘হ্যাঁ-না’ গণভোট

এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো ডাবল ব্যালট। ভোটাররা যেমন তাদের পছন্দের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করছেন, তেমনি সংবিধানের আমূল পরিবর্তনের জন্য ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দিচ্ছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রস্তাবিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর অধীনে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের সীমাবদ্ধতা (সর্বোচ্চ ১০ বছর), এবং নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার স্থায়ী রূপান্তরের মতো বিষয়গুলো এই গণভোটের অন্তর্ভুক্ত।

মাঠের চিত্র ও ভোটারদের প্রত্যাশা

রাজধানীর রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা তরুণ ভোটার আসিফুর রহমান বলেন, “আমি শুধু একজন এমপি বেছে নিতে আসিনি, আমি চাইছি এমন একটা ব্যবস্থা যেখানে ক্ষমতার ভারসাম্য থাকবে। তাই গণভোটের ব্যালটটি আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

অন্যদিকে, দীর্ঘ দেড় দশকের রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি ও অন্যান্য দলগুলো এই নির্বাচনকে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই’ হিসেবে দেখছে। তবে গত ৪টি নির্বাচনে টানা ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় এবারের নির্বাচনি ময়দানে তারা অনুপস্থিত। বিশ্লেষকদের মতে, মূল লড়াইটা হচ্ছে দ্বিমুখী—একদিকে অভিজ্ঞ রাজনীতির ধারক বিএনপি, অন্যদিকে গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় গড়ে ওঠা নতুন শক্তিগুলো।

এক নজরে নির্বাচনের মূল তথ্য:

  • মোট ভোটার: ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি।

  • সংসদীয় আসন: ৩০০ (ভোট হচ্ছে ২৯৯টিতে)।

  • গণভোটের বিষয়: জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার)।

  • নিরাপত্তা বাহিনী: সেনাবাহিনীসহ প্রায় ১০ লাখ সদস্য মোতায়েন।

  • প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী: বিএনপি জোট, জামায়াতে ইসলামী এবং তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় নাগরিক দল (এনসিপি)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *