নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির পাইলটিং উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণ হলো।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তিসংলগ্ন) এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জুবাইদা রহমান। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, বিশিষ্ট নাগরিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। এরপর বিএনপির দলীয় সংগীত ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’ পরিবেশিত হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ সচিব ড. আবু ইউসুফ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড শুধু একটি সহায়তা প্রকল্প নয়, এটি নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং পরিবারের সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়নের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে আমরা প্রান্তিক নারীদের হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছে দিয়ে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়াতে চাই।”
পাইলটিংয়ে যেসব এলাকায় শুরু হচ্ছে
কড়াইল বস্তি ছাড়াও রাজধানীর সাততলা বস্তি, ভাসানটেক বস্তি, মিরপুর সার্কেল বা শাহ আলীর ওয়ার্ড-৮, আলিমিয়ার টেক বস্তি ওয়ার্ড-১৪ এবং বাগানবাড়ি বস্তি এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হবে। গতকাল সোমবার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
কারা পাবেন সুবিধা?
সাধারণত ৫ সদস্যের পরিবারের জন্য ১টি কার্ড দেওয়া হবে। বড় বা যৌথ পরিবারের ক্ষেত্রে আনুপাতিক হারে কার্ড সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে উপকারভোগীরা মাসিক ২,৫০০ টাকা নগদ সহায়তা পাবেন। পরবর্তীতে ভাতার পরিবর্তে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনাধীন।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। পাইলটিং পর্যায়ে সারাদেশে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্য সংখ্যা, শিক্ষা, আবাসন ও জীবনযাত্রার মান যাচাই করে তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হয়েছে।
স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তির ব্যবহার
কোনো রকম হস্তক্ষেপ বা স্বজনপ্রীতি রোধে “প্রক্সি মিনস টেস্ট” (পিএমটি) সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দারিদ্র্যের সূচক নির্ধারণ করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে ডাবল ডিপিং (একাধিক ভাতা), সরকারি চাকরি বা পেনশনভোগীদের বাদ দিয়ে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে মনোনীত করা হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ডগুলো ‘আধুনিক ও নিরাপদ’। এতে স্পর্শবিহীন (কন্টাক্টলেস) চিপ, কিউআর কোড এবং জিও-এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। জি-টু-পি (গভর্নমেন্ট টু পার্সন) পদ্ধতিতে ভাতার অর্থ সরাসরি উপকারভোগী নারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ওয়ালেটে জমা হবে। এতে মাঝপথে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর হস্তক্ষেপ বা অর্থ লোপাটের সুযোগ থাকবে না।
আরও পড়ুন: রমজানে অসৎ পন্থা এড়িয়ে চলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক হলে কিংবা ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র ও বিলাসবহুল সম্পদ (গাড়ি, এসি) থাকলে সেই পরিবার এই সুবিধার আওতাভুক্ত হবে না।
চলতি বছরের জুন পর্যন্ত পাইলটিং প্রকল্পের জন্য মোট ৩৮.০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৬.০৬ শতাংশ অর্থ সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে বিতরণ করা হবে এবং বাকি অংশ কার্ড তৈরি ও সিস্টেম উন্নয়নের কাজে ব্যয় হবে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত গাইডলাইন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে (www.msw.gov.bd) আপলোড করা হয়েছে।

























































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































