দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে সচিবালয়ে তারেক রহমান–এর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে সরকার নতুন করে প্রস্তুতি জোরদার করছে। এই প্রেক্ষাপটে বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয় একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের সভা।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সকাল ৯টা ২ মিনিটে সচিবালয়ে পৌঁছান এবং বৈঠকের আগে কিছু দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করেন। এরপর জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন।

সভায় দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা, আমদানিনির্ভরতা, মজুত পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য ওঠানামা এবং সরবরাহ চেইনে বিঘ্নের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে বিকল্প কৌশল নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি—দুই ধরনের পরিকল্পনা নিয়েই আলোচনা হয়েছে। স্বল্পমেয়াদে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা এবং কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধের কৌশল গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, আমদানির উৎস বৈচিত্র্য করা এবং জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি খাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কার্যকর বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সরকারকে বাস্তবসম্মত নীতি নির্ধারণে সহায়তা করতে পারে।

এছাড়া বৈঠকে সাধারণ মানুষের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জ্বালানির দাম, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং শিল্প উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা—এসব বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ:

  • জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় উচ্চপর্যায়ের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত
  • সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
  • আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও সরবরাহ ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা
  • স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নির্ধারণে গুরুত্ব
  • নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা
  • কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে নজরদারি জোরদারের আলোচনা

বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা ধরে রাখা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও কার্যকর কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব—এমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *