স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ-01099-NewsEdge24

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬ কোনোভাবেই নিপীড়নের হাতিয়ার হয়ে উঠবে না এবং কোনো সাংবাদিক বা গণমাধ্যম এর শিকার হবে না—এ বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ সোমবার সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অংশীজনদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত পরামর্শ সভার পর প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, খসড়া বিলটি আগে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়েছিল। সেখান থেকে আইটি বিশেষজ্ঞসহ সব অংশীজনের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী খসড়াটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে সমাজের সব স্তরের মতামত সংগ্রহ করা যায়। ইতিমধ্যে মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সাইবার ব্যবহারকারীরা মতামত পাঠিয়েছেন।

এটি মিডিয়া সম্পাদক ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সরকারের দ্বিতীয় বৈঠক। গত ১০ সেপ্টেম্বরের প্রথম বৈঠকে লিখিত মতামত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। আজকের সভায় অনেকে সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেছেন এবং লিখিত মতামত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি মিডিয়া ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আরও নিবিড় আলোচনা এবং গণমাধ্যমকে সুরক্ষা দিতে প্রয়োজনীয় ‘সেভিং ক্লজ’ রাখার কথা বলেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, “আমরা মিডিয়াকে টার্গেট করে এই আইন করতে চাইনি এবং চাই না। কোনো সাংবাদিক যেন অপপ্রয়োগের শিকার না হন, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

সভায় উঠে আসা গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ বা গ্রেপ্তারের আগে আদালতের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি সরকার যুক্তিযুক্ত মনে করেছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সুপারিশ পেলে তা বিলে যুক্ত করা হবে। একইসঙ্গে মামলা ও আপিল নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যাতে কেউ অনির্দিষ্টকাল ধরে ঝুলে না থাকেন।

আরও পড়ুন: সালমান মুক্তাদিরের বক্তব্যের প্রসঙ্গে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে প্রধান তথ্য কর্মকর্তাকে (পিআইও) ফোকাল পয়েন্ট করে একটি সমন্বয় কাঠামো গঠন করা হবে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করবে। সম্পাদক পরিষদ, ইলেকট্রনিক মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন এবং সাইবার বিশেষজ্ঞ প্যানেলের প্রতিনিধিরা ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ দেবেন। এরপর যৌথ বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সংশোধিত খসড়া মন্ত্রিসভায় যাওয়ার আগে আবার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ ও অংশীজনরা পুনরায় মতামত দিতে পারেন। গ্রহণযোগ্য মতামত খসড়ায় যুক্ত করে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় চূড়ান্ত পর্যালোচনার পর মন্ত্রিসভায় পেশ করা হবে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে সংসদে উত্থাপন করা হবে। তবে তাড়াহুড়ো করে পাস করা হবে না। সংসদীয় আলোচনা ও বিভিন্ন সেমিনার-সিম্পোজিয়ামের মতামত বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ আইন চায়, যা দেশ, সমাজ ও যুবসমাজকে সাইবার অপরাধ থেকে রক্ষা করবে। একইসঙ্গে সামাজিক-ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারিবারিক বন্ধন ও দেশীয় সংস্কৃতির সুরক্ষা নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনটি প্রণয়ন করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *