কারাগার-newsedge24

কারাগারের নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কারা অধিদপ্তর সাত দফা নির্দেশনার ভিত্তিতে নতুন ব্যবস্থা নিয়েছে। কর্তব্যে অবহেলা, নিয়ম অমান্য এবং শৃঙ্খলাহীনতার কারণে সংশোধনাগারগুলোর ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল মেসবাহুল আলম সেলিম জানিয়েছেন, নির্দেশনাগুলো কার্যকর করতে ইতোমধ্যে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সারাদেশের প্রতিটি কারাগারে প্রতিদিন তদারকি চলছে এবং কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়মিত মতামত জমা দিতে হবে। অপারেশনাল শাখাকে বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ডেপুটি জেলারসহ অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যারা দেশের সব কারাগার পর্যবেক্ষণ করবেন।

সেলিম বলেন, নির্দেশনাগুলোর অন্তত ৯০ শতাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এর সুফল দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। দায়িত্বে অবহেলার জন্য দোষী কর্মীদের আন্তঃকারাগারে বদলির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, অনুমোদিত জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া লকআপের পরবর্তী কোনো কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ব্যতিক্রম হলে জেলারের লিখিত অনুমোদন, নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং রেজিস্টারে নথিভুক্তি বাধ্যতামূলক। প্রতিটি কারাগারে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। সম্ভব হলে পৃথক পর্যবেক্ষণ কক্ষ স্থাপন করে প্রশিক্ষিত ও তথ্যপ্রযুক্তি-দক্ষ কারারক্ষী নিয়োগ করতে হবে। কক্ষ না থাকলে উপযুক্ত স্থানে মনিটর বসাতে হবে।

আরও পড়ুন: পোশাকশিল্পে অস্থিরতা তৈরিতে আওয়ামী লীগ জড়িত: রিজভী

দায়িত্বস্থল থেকে অননুমোদিত অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে শূন্য-সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। কোনো প্রহরী অনুমতি ছাড়া স্থান ত্যাগ করলে সঙ্গে সঙ্গে লিখিতভাবে জানাতে হবে এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ধরনের ঘটনা গোপন, বিলম্ব বা ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহি করতে হবে।

বারবার অবহেলার অভিযোগে রিপোর্ট হওয়া কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ, কাউন্সেলিং ও অনুপ্রেরণামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বদলি বা বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। বৃষ্টি ও বজ্রপাতসহ প্রতিকূল আবহাওয়ায় প্রহরীদের নির্ধারিত স্থানে থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

সুপারিনটেনডেন্ট, জেলার ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের নিয়মিত তত্ত্বাবধান ও আকস্মিক পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা নিরাপত্তা চৌকি, সিসিটিভি ব্যবস্থা, প্রহরীদের দায়িত্ব ও সামগ্রিক কার্যকারিতা পরীক্ষা করে ত্রুটি দূর করবেন। আগস্টে জারি করা নির্দেশনায় সতর্ক করা হয়েছিল যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কারা প্রশাসনের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পারে। তাই নিরাপত্তা ত্রুটি রোধ, শৃঙ্খলা বজায় ও সব স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবিলম্বে এসব ব্যবস্থা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *