প্রধানমন্ত্রী-010310-NewsEdge24

শনিবার রাজধানীর বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৭ই নভেম্বরকে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনাকার্টা বলে মন্তব্য করেছেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ও সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের বিশেষ প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) তিন হাজার ক্যাডেট এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের পাঁচশ সদস্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা অর্জন একটি ঐতিহাসিক গৌরব। তবে সেই গৌরবের পতাকাকে সমুন্নত রেখে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলা প্রতিটি প্রজন্মের দায়িত্ব। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব হলো স্বাধীনতার মূলমন্ত্রকে ধারণ করে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ, মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ বিনির্মাণে আত্মনিয়োগ করা। অভিভাবক হিসেবে তারুণ্যের সব সম্ভাবনাকে বিকশিত করার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করাও দায়িত্ব। বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ আগামী বিনির্মাণে বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, ইতিহাস সাক্ষী—যতবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে, যতবার গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে, ততবারই ৭ নভেম্বরের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের চেতনায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। এই দিনে দেশপ্রেমিক গণতন্ত্রকামী জনগণের দীপ্ত উচ্চারণ হোক—দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।

সরকারপ্রধান স্মরণ করেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব চক্রান্ত রুখে দিয়েছিল। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ছিল শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ষড়যন্ত্র চরম আকার ধারণ করে এবং ২ নভেম্বর মধ্যরাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দী করা হয়। স্বাধীনতার ঘোষককে বন্দী রেখে যে চক্রান্ত শুরু হয়েছিল, সিপাহি-জনতা সেটি রুখে দেয়। এ কারণেই ৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের চেতনার বাতিঘর।

তারেক রহমান বলেন, যারা দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে একদলীয় শাসন কায়েম করতে এবং সশস্ত্র বাহিনীর গৌরব ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল—১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তাদের পরাজয় ঘটে। পরে সেই অপশক্তি মহাজোটের নামে একজোট হয়ে দেশকে আবার তাঁবেদার করে, পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞ ঘটায় এবং ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করে। ২০২৪ সালে হাজারো শহিদের প্রাণের বিনিময়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই অপশক্তির পুনরায় পরাজয় ঘটে।

আরও পড়ুন: জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, ২০২৪ ছিল স্বাধীনতা রক্ষার। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সর্বস্তরের মানুষ যেমন রাজপথে নেমেছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও সিপাহি-জনতা একইভাবে নেমে স্বাধীনতাবিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। সময়ের সঙ্গে প্রমাণিত হয়েছে, ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ণয়ের দিন। যতবার এই পথরেখা থেকে বিচ্যুত হয়েছে, ততবার সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। তাই ৭ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনাকার্টা।

প্রধানমন্ত্রী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তিনি ৭ নভেম্বর সার্বভৌমত্বের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন এবং ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে রণাঙ্গনে লড়াই করেছিলেন। যে দেশের তারুণ্য জাতীয়তাবোধে অনুপ্রাণিত নয়, সে দেশের ঐক্য সুদৃঢ় হতে পারে না। ৭১, ৭৫, ৯০ ও ২৪-এর প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনায় তারুণ্য প্রমাণ করেছে—বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্নে তারা কখনো আপোষ করেনি।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কেউ যাতে দেশ ও জনগণের অধিকার হরণ করতে বা দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে—এটিই এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন এবং সে জন্য ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের চেতনা মনে-প্রাণে ধারণ করতে হবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *