প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ফেসবুক-newsedge24

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, থ্রেডস, মেসেঞ্জার এবং হোয়াটসঅ্যাপ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান মেটাকে সামাজিক সম্প্রীতি ব্যাহতকারী এবং ঘৃণা ছড়ানো অপতথ্য মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। ২৫ জুন, ২০২৫-এ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় মেটার এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের পাবলিক পলিসি বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট সাইমন মিলনার এবং পাবলিক পলিসি ম্যানেজার রুজান সারওয়ারের সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি বলেন, “এটি একটি বড় সমস্যা। এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য আপনাদের কার্যকর উপায় খুঁজে বের করতে হবে।”

প্রধান উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। একটি ভুল শব্দ পুরো দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। কিছু লোক ইচ্ছাকৃতভাবে এমনটি করে।” তিনি মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোর ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করলেও সতর্ক করে বলেন, নৈতিক মানদণ্ড না মানলে এটি বিপজ্জনক হতে পারে।

মিলনার জানান, মেটা আগামী বছরের সাধারণ নির্বাচনের আগে অপতথ্য মোকাবিলায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। গত কয়েকদিনে তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ এবং মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি আরও বলেন, “গত পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশের জন্য আমাদের একটি ডেডিকেটেড টিম রয়েছে।”

প্রধান উপদেষ্টা মেটার এলএলএম এআই-এর ইংরেজি ভাষার উপর অতিরিক্ত নির্ভরতার সমালোচনা করে বাংলা ভাষার ব্যবহার বৃদ্ধির আহ্বান জানান। মঙ্গলবার (২৪ জুন, ২০২৫) আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মেটাকে বাংলা ভাষায় এলএলএম এবং এআই-ভিত্তিক অনুভূতি বিশ্লেষণে বিনিয়োগ বাড়ানোর অনুরোধ করা হয়। এছাড়া, স্থানীয় ভাষা, সংস্কৃতি এবং সংবেদনশীলতা বোঝেন এমন বাংলাদেশি কন্টেন্ট পর্যালোচক নিয়োগের মাধ্যমে কমিউনিটি মান প্রয়োগ জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ সরকার মেটাকে দেশে ক্যাশ সার্ভার এবং এজ রাউটার স্থাপনের অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে পরিষেবার মান উন্নত, ব্যান্ডউইথ অপ্টিমাইজ এবং ব্যক্তিগত তথ্য (PII) সুরক্ষিত হয়। বাংলাদেশ পুলিশ এবং বিটিআরসি নাগরিক নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর পোস্ট দ্রুত সরানো, হুমকি শনাক্তকরণ, অপরাধ শনাক্তকরণ, মিথ্যা তথ্য সতর্কতা, মব সন্ত্রাস উসকানি এবং আত্মহত্যার সতর্কতায় মেটার আরও সক্রিয় ভূমিকা চেয়েছে।

বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ৮৪% ফেসবুক অ্যাকাউন্টধারী, যা প্রতিদিন হাজার হাজার বিভ্রান্তিকর কন্টেন্ট ছড়ায়। অপতথ্য এবং ঘৃণা ছড়ানোর কারণে সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ছে, যা দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। মেটার প্ল্যাটফর্মে অতীতে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যার সময় ঘৃণা ছড়ানো এবং সহিংসতা উসকানোর ঘটনায় সমালোচনা হয়েছে। ২০১৭ সালে মিয়ানমারে ফেসবুক ঘৃণা ছড়ানোর “উপযোগী যন্ত্র” হিসেবে কাজ করেছিল, যা ৭৩০,০০০ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *