বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যেন ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল বা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতে না পারে, সেজন্য নেতাকর্মীদের সচেতন থাকতে হবে। তিনি বলেন, “আমাদের প্রত্যেকটি মানুষ, শহীদ জিয়া ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার প্রত্যেকটি সৈনিককেই দায়িত্ব নিতে হবে, যাতে দলের সম্পর্কে কোনো বিভ্রান্তি ছড়ানো না হয়।” শনিবার বিকালে কিশোরগঞ্জ পুরাতন স্টেডিয়ামে জেলা বিএনপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, গত ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেছে। তিনি বলেন, “ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে। বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশ পরিচালনা করছে এবং তারা যে সংস্কার প্রস্তাব করেছে, তার ৯০-৯৫ শতাংশই বিএনপি আড়াই বছর আগে প্রস্তাব করেছিল।” তিনি জানান, বিএনপির লক্ষ্য হলো জনগণের রাজনৈতিক অধিকার, ভোটের অধিকার, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও নারীদের স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করা। তিনি কৃষকদের জন্য সার, বীজ ও কীটনাশক সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, “জনগণের রায় ও মতামতের ভিত্তিতে একটি জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির ৩১ দফা বাস্তবায়নের জন্য নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “অদৃশ্য শক্তি মাথাচাড়া দিচ্ছে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশ ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”
বাংলাদেশে যা কিছু ভালো, তা বিএনপির অবদান: মির্জা ফখরুল
সম্মেলনে উদ্বোধকের বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “বিএনপি ৪৭ বছরের পুরনো দল, যা শহীদ জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর তিনি গণতান্ত্রিক ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন।” তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত ও কৃষিতে বিপ্লব এনেছিলেন। তিনি বলেন, “১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের পর জিয়াউর রহমান দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলেন। বাংলাদেশে যা কিছু ভালো, তার সবই বিএনপির অবদান।”
মির্জা ফখরুল বলেন, “জিয়াউর রহমানের হত্যার পর খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের পতাকা হাতে নিয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশকে ‘ইমার্জিং টাইগার’-এ পরিণত করেছিলেন।” তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “বিএনপিকে কেউ ভাঙতে পারেনি। আমরা আগামী নির্বাচনে জনগণের রায় নিয়ে তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে দায়িত্ব দিতে প্রস্তুত।”
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বলেন, “কিশোরগঞ্জে আন্দোলন দমানোর জন্য শেখ হাসিনা বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। তবু আমরা আন্দোলন করেছি। এখন সময় এসেছে ফসল ঘরে তোলার।” প্রধান বক্তা হাবিব-উন-নবী খান সোহেল বলেন, “শেখ হাসিনা নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংস করেছেন। এর জন্য তাকে কঠিন শাস্তি পেতে হবে।”
আরও পড়ুন: নির্বাচনে এসে জনগণের রায় নিন, সংকট সৃষ্টি করবেন না: সালাহউদ্দিন
জেলা বিএনপি সভাপতি মো. শরীফুল আলমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামের পরিচালনায় সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, কোষাধ্যক্ষ এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ মো. ওয়ারেস আলী মামুন, আবু ওয়াহাব আকন্দ, সদস্য লায়লা বেগম, শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালসহ জেলার বিভিন্ন নেতা। সম্মেলনে জেলার ১৩টি উপজেলা ও ৮টি পৌর শাখার নেতাকর্মীরা উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অংশ নেন।



















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































