শেখ হাসিনা-hasina-newsedge4

আগামীকাল জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় সোমবার (১৭ নভেম্বর) ঘোষণা করা হবে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করবেন। রায় সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)।

গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, প্রসিকিউশন পক্ষ পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে। রাজসাক্ষী চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের খালাস চেয়েছেন তার আইনজীবী।

বহুল আলোচিত এই মামলায় পাঁচটি অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, মিজানুল ইসলাম, গাজী এস. এইচ. তামিমসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন এবং রাজসাক্ষী আল-মামুনের পক্ষে যায়েদ বিন আমজাদ শুনানি করেন।

মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের পিতাসহ স্বজনহারা পরিবারের সদস্যরা। স্টার উইটনেস হিসেবে সাক্ষ্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। সর্বমোট ৫৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।

আরও পড়ুন: ভারতকে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ

গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একপর্যায়ে দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দমনে সরকার, দলীয় ক্যাডার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাংশের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে একের পর এক মামলা দায়ের হয়। বর্তমানে দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসব মামলার বিচার চলছে।

ঐতিহাসিক এই রায়কে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *