জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবার সরকারপ্রধান হিসেবে ভাষণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মারণাস্ত্র নয় বরং যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতাই হয়ে উঠবে পরিবর্তনের হাতিয়ার। যেকোনো সংঘাতের সমাধান হতে হবে আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকালে দেওয়া ভাষণের শুরুতে তিনি মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মত্যাগীদের এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
গ্লোবালাইজেশনের যুগে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের ঘটনা প্রতিটি রাষ্ট্রে প্রভাব ফেলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে। জ্বালানি সংকট ও মুদ্রাস্ফীতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত সমতা, ন্যায্যতা ও পারস্পরিক মর্যাদা।
তিনি স্মরণ করেন, এই মঞ্চেই তার পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দেশের পক্ষে ভাষণ দিয়েছিলেন। আজ তিনিও একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে শান্তিময় বিশ্বের প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশ এখন গণতন্ত্রের পথে। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। সরকার Recovery, Restoration ও Reconstruction—৩-আর কৌশল অনুসরণ করছে।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে তিনি বলেন, নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে ১২ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে হচ্ছে। সংকটের উৎস মিয়ানমারে; সমাধানও সেখানেই। নিরাপদ প্রত্যাবাসন এবং আগ পর্যন্ত জীবনরক্ষাকারী সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সমর্থন প্রত্যাশা করেন তিনি।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ক্লাইমেট জাস্টিস, অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তায় সিওপি-৩১-এ জোরালো পদক্ষেপ আশা করে। পরিবেশ সুরক্ষায় পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারেজসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চলছে। ১৯৯২ সালের ওয়াটার কনভেনশনে স্বাক্ষরও করেছে সরকার।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়াকে অগ্রাধিকার দিয়ে ইতিহাসে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। পাঁচ বছরে শিক্ষাখাতে জিডিপি ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, ব্যাগ ও দুপুরের খাবার দেওয়া হচ্ছে। খেলাধুলাকে সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির যুগে ডিজিটাল বিভাজন যেন এআই বিভাজনে পরিণত না হয় সে বিষয়ে সতর্ক করে তিনি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এআই ও সোশ্যাল মিডিয়ার ইতিবাচক ব্যবহারের জন্য জাতিসংঘের কার্যকর নীতিমালা প্রয়োজন বলেও মত দেন।
ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীন রাষ্ট্রের অধিকারের প্রতি অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। নিয়মিত, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ, ম্যানুফ্যাকচারিং হাব গড়ে তোলা এবং ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসডিজি লক্ষ্য অর্জনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সর্বশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ: সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই মন্ত্রে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে জাতিসংঘের নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান।





















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































