সেলিনা হায়াৎ আইভী-newsedge24

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের পর গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার কাওয়ালিন নাহার শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আইভীকে বেলা ২টার দিকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়।

শুক্রবার ভোর ৩টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত আইভীর বাসভবন ‘চুনকা কুটির’ থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সিদ্ধিরগঞ্জে গুলিবিদ্ধ হয়ে পোশাকশ্রমিক মিনারুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই মামলায় আইভীসহ ৪৩০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানও রয়েছেন।

গ্রেপ্তারের সময় আইভীর বাসার সামনে স্থানীয় জনতা ব্যারিকেড সৃষ্টি করে পুলিশের প্রবেশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আইভী শান্তভাবে পুলিশ সুপারকে বলছেন, “দিনের বেলা ছাড়া আমি যাব না, নিতে হলে দিনেই নিতে হবে।” তবে, শতাধিক পুলিশের উপস্থিতিতে অবশেষে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর সকাল ১০টার দিকে আইভীকে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর দুপুরে তাঁকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।

সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র এবং বাংলাদেশের সিটি করপোরেশনের প্রথম নারী মেয়র হিসেবে ইতিহাস গড়েছিলেন। তিনি ২০১১, ২০১৬ এবং ২০২২ সালে টানা তিনবার মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তবে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাঁর বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনের সময় সহিংসতার অভিযোগ উঠে। মিনারুল ইসলাম হত্যা মামলায় তাঁর নাম জড়ানোর পর থেকেই তিনি আলোচনায় ছিলেন।

এছাড়া, আইভীর বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে শামীম ওসমানের সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় হত্যাচেষ্টা মামলাও রয়েছে, যা ২০২৩ সালে পুনঃতদন্তের নির্দেশ পায়। এই ঘটনা নারায়ণগঞ্জে তাঁর এবং শামীম ওসমানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধের অংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *