Mob-justice-পিটিয়ে হত্যা-newsedge24

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার কড়ইবাড়ি গ্রামে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একই পরিবারের তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরেকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে। নিহতরা হলেন রুবি বেগম (৫৮), তার ছেলে রাসেল (৩৫) এবং মেয়ে জোনাকি আক্তার (২৭)। এছাড়া, গুরুতর আহত রুবির আরেক মেয়ে রুমা আক্তারকে (৩০) মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাঙ্গরা বাজার থানার উপ-পরিদর্শক মো. নাহিদ এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান জানান, “স্থানীয়দের অভিযোগ, রুবি বেগম ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল। এর জের ধরে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় গণপিটুনিতে রুবি, রাসেল ও জোনাকি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।” তিনি আরও জানান, “নিহতদের বিরুদ্ধে মুরাদনগর, নবীনগর ও বাঙ্গরা বাজার থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।”

আরও পড়ুন: পটিয়ায় ছাত্রদের উপর পুলিশের হামলার অভিযোগ: ২০ জন আহত

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রুবি বেগম ও তার পরিবারের সদস্যরা মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থাকায় এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ জমে ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে এই ক্ষোভের জেরে গ্রামবাসীরা তাদের বাড়ি ঘেরাও করে হামলা চালায়। এ সময় তিনজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়, এবং রুমা আক্তার গুরুতর আহত হন খবর পেয়ে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। আহত রুমাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ওসি মাহফুজুর রহমান আরও জানান, “এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে রুবি ও তার পরিবারের অপকর্মের কারণে এলাকার জনজীবন বিপর্যস্ত ছিল। প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায়, গ্রামবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে যা এই হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *