জ্ঞান ফেরেনি সায়েমের অবস্থার উন্নতি মামুনের-newsedge24

গত শনিবার (৩০ আগস্ট ২০২৫) রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ২ নম্বর গেট এলাকায় একটি তুচ্ছ ঘটনা থেকে সহিংসতার সূত্রপাত হয়। একজন নারী শিক্ষার্থী দেরিতে ভাড়া বাসায় প্রবেশের চেষ্টা করলে বাসার দারোয়ান তার গায়ে হাত তোলেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন, যা পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। রবিবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে সংঘর্ষ তীব্রতর হয়, যাতে প্রায় ৫০০ জন আহত হন, যার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, প্রক্টর এবং শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র ইমতিয়াজ আহমেদ সায়েম এই সংঘর্ষে গুরুতরভাবে আহত হন। তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়, যার ফলে খুলির ভেতরের অংশ ও রক্তনালী ছিঁড়ে যায়। জরুরি অস্ত্রোপচারের পর তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। তিন দিন অতিবাহিত হলেও তার জ্ঞান ফেরেনি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সায়েমের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক, তবে ব্লাড প্রেসারে কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

সায়েমের বাবা মোহাম্মদ আমির হোসেন বগুড়া থেকে ছুটে এসে বলেন, “ওকে নিষেধ করেছিলাম মারামারিতে না যেতে। কিন্তু সে বলল, আহত বন্ধুদের হাসপাতালে নিতে যাচ্ছি। কিছুক্ষণ পর শুনি আমার ছেলেকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করেছে সন্ত্রাসীরা।”

একই সংঘর্ষে সমাজতত্ত্ব বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র মামুন মিয়াও গুরুতর আহত হন। তার মাথার খুলি ফেটে যাওয়ায় অস্ত্রোপচার করা হয়, এবং খুলির একটি অংশ ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, মামুনের অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে। তার বড় ভাই মাসুদ রানা জানান, “মামুন আমাদের সঙ্গে কথা বলতে পারছে।” চিকিৎসকরা আশা করছেন, তাকে শীঘ্রই কেবিনে স্থানান্তর করা যাবে। খুলির সংরক্ষিত অংশ দুই থেকে আড়াই মাস পর পুনঃস্থাপন করা হবে, যদি তার স্বাস্থ্য স্থিতিশীল থাকে।

পার্কভিউ হাসপাতালের স্পেশালাইজড ইউনিটের ইনচার্জ ডা. সিরাজুল মোস্তফা জানান, সায়েমের মাথার ক্ষত অত্যন্ত গভীর এবং তার জ্ঞান না ফেরার বিষয়টি উদ্বেগজনক। তবে মামুনের অবস্থা তুলনামূলকভাবে ভালো, এবং তার পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা উজ্জ্বল।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদক্ষেপ

সংঘর্ষের পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে:

  • আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় বহন করবে।
  • ঘটনা তদন্তে ২১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
  • ক্যাম্পাসে মডেল থানা ও রেলক্রসিং এলাকায় পুলিশ বক্স স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করা হবে।
  • সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যাতে ৯৮ জনের নাম উল্লেখসহ এক হাজার জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
  • পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডাকা হয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “শিক্ষাঙ্গনে এমন সহিংসতা কখনোই কাম্য নয়। প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।”

আরও পড়ুন: চবিতে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ৭০

কিছু সূত্রে অভিযোগ উঠেছে যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি এই সংঘর্ষকে উসকে দিয়েছেন। বিশেষ করে, বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতা এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কিছু সদস্যের নাম উঠে এসেছে। তবে এই অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *