এত অত্যাচার, গুম, খুন ও নির্যাতন সত্ত্বেও বিএনপির নেতাকর্মীরা কখনো কৌশলের নামে গুপ্ত বা সুপ্ত অবস্থান গ্রহণ করেনি—এমনটাই দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (হল অব ফেম) ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সময় গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন, ছবি হাতে নিয়ে প্রিয়জনের ফিরে আসার আকুতি জানান। তারেক রহমানও আবেগাপ্লুত হয়ে তাদের সান্ত্বনা দেন এবং চোখের জল ফেলেন।
তারেক রহমান বলেন, “আমাকে বাধ্য হয়ে বহু বছর দেশ, স্বজন ও নেতাকর্মীদের থেকে দূরে থাকতে হয়েছে। দূর থেকে যতটুকু সম্ভব নেতাকর্মী ও স্বজনহারা মানুষদের নিয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে প্রতিবাদ ও আন্দোলন গড়ে তুলেছি। সাধ্য অনুযায়ী স্বজনহারা মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছি। সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও প্রতিটি মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।”
তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে অত্যাচার, গুম, নির্যাতন ও হত্যা করা হয়েছে। বিএনপির দেড় লক্ষাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়, যার বোঝা প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মীকে বয়ে বেড়াতে হয়েছে। দিনের পর দিন ঘরবাড়ি ছাড়া থাকতে হয়েছে, স্বজন থেকে দূরে থাকতে হয়েছে। এসব মামলা ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
গুম-খুনের সেই বিভীষিকাময় দিন-রাতের অবসান ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দেশের মানুষ গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। এক দুঃসময় আমরা অতিক্রম করেছি। অনেক সন্তান এখনো অপেক্ষায় রয়েছে—তাদের বাবা হঠাৎ দরজায় এসে কড়া নাড়বে। অনেক মা এখনো আশা করে আছেন, সন্তান হঠাৎ বাড়ি ফিরে দেখা দেবে।”
তারেক রহমান আরও বলেন, “সরকারবিরোধী আন্দোলন কখনো উত্তাল হয়েছে, কখনো স্থিমিত হয়েছে। কিন্তু কৌশলের নামে বিএনপি গুপ্ত বা সুপ্ত বেশ ধারণ করেনি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবসময় আপসহীন থেকেছে। গুম-খুনের শিকার পরিবারের প্রতি আগামীর গণতান্ত্রিক সরকারের দায়িত্ব রয়েছে। রাষ্ট্র কখনো আপনাদের ত্যাগ ভুলে যেতে পারে না।”
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কিছু বিতর্কিত ভূমিকা সত্ত্বেও বিএনপি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, গুম-খুন-নির্যাতনের শিকার পরিবার নিয়ে বিএনপির পরিকল্পনা রয়েছে। সব শহীদের নামে সরকারি স্থাপনার নামকরণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের নাম স্মরণে রাখতে পারে। নির্বাচন সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতার কারণে এসব পরিকল্পনা এখনই পুরোপুরি প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন রকম কথা বলে কেউ কেউ গণতন্ত্রের ফেরার পথকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। “গণতন্ত্রকে বিনষ্ট করার চেষ্টা সফল হবে না,”—এমনটাই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।
সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ দলের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারের দাবি জানান।

























































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































