ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে লুণ্ঠিত সব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে আপসহীন অবস্থান ঘোষণা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। আজ এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট উপহার দিতে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক অস্ত্র ও গুলি লুণ্ঠিত হয়েছিল। যদিও গত কয়েক মাসে যৌথ বাহিনীর অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে, কিন্তু এখনো একটি বড় অংশ রয়ে গেছে অন্ধকার জগতের অপরাধীদের হাতে। গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, নির্বাচনের আগে এই অস্ত্রগুলো সংঘাতের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

প্রধান উপদেষ্টা নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের আগেই যেন এই অবৈধ অস্ত্রের উৎসগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। বিশেষ করে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর দ্বিতীয় পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এখন আরও বেশি মারমুখী অবস্থানে।

পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিজিবি একযোগে কাজ করছে যাতে জনমনে কোনো ধরনের ভীতি কাজ না করে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে প্রায় ৯ লাখ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রধান দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সেই লুণ্ঠিত ১,৩৬২টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং প্রায় আড়াই লাখ গোলাবারুদ যা এখনো নিখোঁজ। প্রধান উপদেষ্টা এই ‘নিখোঁজ তালিকা’ দ্রুত শূন্যে নামিয়ে আনতে বিশেষ ট্রাস্কফোর্স গঠনেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন।

আইন উপদেষ্টাসহ নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, অস্ত্র উদ্ধার না হলে কেবল ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নয়, বরং ভোটারদের মনে আস্থার সংকট তৈরি হবে। ড. ইউনূস বৈঠকে বলেন, “আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে পেশিশক্তি নয়, বরং ব্যালটের শক্তি কথা বলবে। আর তার জন্য অবৈধ অস্ত্রের মূলোৎপাটন অনিবার্য।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *