রাজধানী ঢাকার ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করে জনদুর্ভোগ কমাতে আজ বুধবার থেকে কঠোর অভিযানে নামছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ট্রাফিক ৮টি বিভাগের মধ্যে রমনা বিভাগ থেকে এ অভিযান শুরু হয়ে গুলশান বিভাগে গিয়ে শেষ হবে। ঢাকা মহানগরীর সড়কের পাশে বিভিন্ন দোকান পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হবে।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর দখলদারত্বের কারণে সৃষ্ট তীব্র যানজট নিরসনেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, “এই অভিযান সাধারণ হকারদের বিরুদ্ধে নয়, বরং সেই সব সামর্থ্যবান ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যারা সড়কের ওপর রেস্টুরেন্টের কিচেন বা স্থায়ী স্থাপনা বানিয়ে জনপথ আটকে রেখেছেন। যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের বৈধ জায়গার বাইরে অতিরিক্ত আকারে ফুটপাত দখল করে ব্যবহার করছে, আমরা এবার তা দখলমুক্ত করব। এছাড়া, হকারদের জন্য নির্ধারিত এলাকায় শিগগিরই হলিডে ও নাইট মার্কেট চালুর প্রস্তুতিও চলছে।”
এর আগে গত ২৩ মার্চ ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় খাবার রেস্টুরেন্ট, যানবাহনের ওয়ার্কশপ, আসবাবপত্র ও পোশাকের দোকানগুলো তাদের কার্যক্রম ফুটপাত ও মূল সড়কে সম্প্রসারণ করেছে। রেস্টুরেন্টের রান্নার সরঞ্জাম, গ্রিল বা কাবাব তৈরির মেশিন, ওয়ার্কশপের টায়ার ও যন্ত্রপাতি এবং আসবাবপত্র রাস্তার ওপর রাখার ফলে পথচারীদের চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মোটরগাড়ির ওয়ার্কশপগুলো প্রায়ই ফুটপাত ও সড়কের একটি লেন দখল করে গাড়ি মেরামত করে। এতে পথচারীরা বাধ্য হয়ে মূল রাস্তা দিয়ে চলাচল করায় একদিকে যেমন নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম যানজট।
আরও পড়ুন:
জ্বালানি তেল অবৈধ মজুতের তথ্য দিলে নগদ অর্থ পুরস্কার
ডিএমপি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যারা অবৈধভাবে ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, তাদের অনতিবিলম্বে মালামাল সরিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় আগামীকাল থেকে ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

























































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































