পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির-010202-NewsEdge24

পবিত্র মক্কা ও মদিনার মর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এ বিষয়ে প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ যা করার, তা করবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, মক্কা ও মদিনা যে অঞ্চলে অবস্থিত, সেই অঞ্চলে অসংখ্য মুসলমানের বসবাস। মুসলিম দেশগুলোর জন্য মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের বিশ্বব্যাপী কার্যক্রমে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো গেলে এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব। এ কারণে মক্কা চুক্তির উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

তিনি বলেন, মক্কা চুক্তিতে যোগ দেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো আমন্ত্রণ বা জবাব এসেছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ প্রশ্নের উত্তর আগেই দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার—পবিত্র মক্কা ও মদিনার বিষয়ে কোনো আপস নেই।

সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করার বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, এত দিন দুই দেশের সম্পর্ক মূলত শ্রমিক পাঠানো ও রেমিট্যান্স আনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন সেই প্রচলিত সম্পর্কের বাইরে গিয়ে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। দুই দেশের সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছে। স্টার রিফাইনারি-২ প্রকল্পে সৌদি বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। দুই দেশের সম্পর্ককে কৌশলগত পর্যায়ে নিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর ও যোগাযোগ বাড়ছে। সৌদি আরবের মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বাংলাদেশ সফর করছেন। বাংলাদেশের প্রতিনিধিরাও সৌদি আরব সফর করছেন।

আরও পড়ুন: গঙ্গা পানি চুক্তি নিয়ে ঢাকা-দিল্লি যৌথভাবে কাজ করছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

তিনি বলেন, শুধু সৌদি আরব নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কও বিনিয়োগ অংশীদারত্বের ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে হবে। প্রচলিত শ্রমবাজারকেন্দ্রিক সম্পর্কের বাইরে গিয়ে প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক খাতেও সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রচলিত নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নীতির ভিত্তিতে অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ।

আগামী ২৬শে অক্টোবর চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রীর জাপান যাওয়া প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, এ সফরেও বিনিয়োগ অংশীদারত্বকে গুরুত্ব দেয়া হবে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আওতায় বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *