জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-newsedge24

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত ১৮টি বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ দ্রুত কার্যকর করার লক্ষ্যে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান উপদেষ্টার মুখ্যসচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় জানানো হয়, ছাত্র-শ্রমিক-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ছয়টি প্রধান সংস্কার কমিশনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কমিশন গঠন করেছে। এসব কমিশন সরকারের কাছে সংস্কার প্রস্তাব জমা দিয়েছে। সংবিধান-সংশ্লিষ্ট ও বৃহৎ সংস্কারের জন্য প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন কাজ করছে। তবে, প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় যেসব প্রস্তাব নিজ উদ্যোগে বাস্তবায়ন করতে পারে, সেগুলো দ্রুত কার্যকর করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গত ২৫ মে একটি পত্র বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে প্রেরণ করেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে পাঁচটি সংস্কার কমিশনের ১২১টি বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাব পাওয়া গেছে:

  • নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন: ৯টি
  • বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন: ৩৮টি
  • দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশন: ৪৩টি
  • পুলিশ সংস্কার কমিশন: ১৩টি
  • জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন: ১৮টি

সভায় জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের ১৮টি প্রস্তাবের মধ্যে সহজে বাস্তবায়নযোগ্য আটটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এগুলো হলো:

  • মহাসড়কের পেট্রোল পাম্পে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট স্থাপন
  • মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট ডায়নামিক করা
  • কলেজ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন
  • কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিচালনা
  • গণশুনানি নিশ্চিতকরণ
  • তথ্য অধিকার আইন পর্যালোচনা ও সংশোধন
  • বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো পুনর্গঠন
  • ডিজিটাল রূপান্তর ও ই-সেবা শক্তিশালীকরণ

সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত

১. মহাসড়কের পেট্রোল পাম্পে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট

  • জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি মালিক সমিতির সঙ্গে বৈঠক করে ২০ জুলাই ২০২৫-এর মধ্যে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট স্থাপনের সময়সীমা নির্ধারণ করবে।
  • জেলা প্রশাসন নিয়মিত পরিদর্শন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়কে অবহিত করবে।

২. মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট ডায়নামিক করা

  • তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এক সপ্তাহের মধ্যে সব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে ওয়েবসাইটে হালনাগাদ তথ্য আপলোড ও নাগরিকদের মতামত প্রদানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।
  • ন্যাশনাল ডাটা গভর্নেন্স ইন্টেরোপেরাবিলিটি দুই মাসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।

৩. কলেজ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন

  • মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ দুই দিনের মধ্যে নীতিমালা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে।
  • জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে ভেটিং সম্পন্ন করে ফেরত পাঠাবে, এবং শিক্ষা বিভাগ পাঁচ কর্মদিবসে নীতিমালা জারি করবে।
  • নীতিমালা জারির এক মাসের মধ্যে ম্যানেজিং কমিটি পুনর্গঠন সম্পন্ন হবে।

৪. কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিচালনা

  • স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ও এনজিওবিষয়ক ব্যুরো এক সপ্তাহের মধ্যে বৈঠক করে কৌশল নির্ধারণ করবে।

৫. গণশুনানি নিশ্চিতকরণ

  • মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক সপ্তাহের মধ্যে সেবা প্রদানকারী মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে গণশুনানির কৌশল ঠিক করবে।

৬. তথ্য অধিকার আইন ও অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট পর্যালোচনা

  • মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ পর্যালোচনার জন্য সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করবে।

৭. বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো পুনর্গঠন

  • বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় চলমান সংস্কারের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করবে।

৮. ডিজিটাল রূপান্তর ও ই-সেবা

  • তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ নাগরিক প্লাটফরমে সব সেবা অন্তর্ভুক্তির জন্য সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করবে।
  • ন্যাশনাল ডাটা গভর্নেন্স ইন্টেরোপেরাবিলিটি সিস্টেম দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

প্রতিটি মন্ত্রণালয় নিজস্ব বাস্তবায়ন টিম গঠন করবে এবং এক মাসের মধ্যে সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে জমা দেবে। গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিটের (জিআইইউ) তত্ত্বাবধানে একটি তদারকি টিম মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগও সংস্কার বাস্তবায়ন তদারকি করবে।

গত কয়েক মাসে ৫৪টি মন্ত্রণালয়ে ১,০৬১টি সংস্কার ও উন্নয়ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে নিয়মিত সভা আয়োজন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *