সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান -newsedge24

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, বন ও প্রাকৃতিক সম্পদ শুধু পরিবেশ নয়, অর্থনীতি, জীববৈচিত্র্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার ভিত্তি। শনিবার (২৮ জুন, ২০২৫) রাজধানীর বন অধিদপ্তরে ‘ওয়ার্কশপ ফর সেকেন্ড সাইকল অব দা ন্যাশনাল ফরেস্ট ইনভেন্টরি অব বাংলাদেশ এন্ড ন্যাশনাল ভ্যালিডেশন এন্ড ওয়ার্কশপ অন দা জেনারেশন অব দা ল্যান্ড কাভার এন্ড ন্যাচারাল ক্যাপিটাল ম্যাপ এন্ড ডেভেলপিং ইন্টিগ্রেটেড কোলাবোরেটিভ ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট প্ল্যানস’ শীর্ষক কর্মশালায় ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “বনকে কার্বন ট্রেডিংয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং অক্সিজেন সরবরাহকারী ও জীববৈচিত্র্যের আশ্রয়স্থল হিসেবে দেখতে হবে। উন্নত বিশ্ব শুধু কার্বন ক্রেডিট কিনলে নির্গমন কমাবে না। আমাদের ডিগ্রেডেড বন পুনরুদ্ধার, কমিউনিটি-ভিত্তিক ব্যবস্থাপনা এবং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।” তিনি অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং সুফল প্রকল্পের ভেরিফিকেশনের ওপর জোর দেন।

উপদেষ্টা আরও বলেন, জাতীয় বন জরিপের দ্বিতীয় চক্রের তথ্য বনবিষয়ক তথ্যভাণ্ডার গঠন, নীতিনির্ধারণ, প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি ভূপ্রকৃতি, ভূমি ব্যবহার ও ন্যাচারাল ক্যাপিটাল মানচিত্র তৈরি এবং সমন্বিত বন ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেন।

তিনি জানান, এই কার্যক্রমে থার্ড পার্টি অ্যানালাইসিস, অনলাইন ও প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং এবং পাঁচ বছর অন্তর তথ্য হালনাগাদের প্রয়োজন। তিনি বিদেশি সহায়তার অপেক্ষায় না থেকে নিজস্ব অর্থায়নে বন জরিপ পরিচালনার পরামর্শ দেন।

কর্মশালায় বন বিভাগের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, বাংলাদেশে এফএও প্রতিনিধি জিয়াওকুন শি, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. কামরুজ্জামান এবং সিইজিআইএস’র নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা এ খান। বন অধিদপ্তর, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, একাডেমিয়া ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন।

তথ্যসূত্র: বাসস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *