নয়াদিল্লিতে ভিন্ন নামে আওয়ামী লীগের-newsedge24

নয়াদিল্লিতে আওয়ামী লীগের পলাতক শীর্ষ নেতা ও ক্ষমতাচ্যুত হাসিনা সরকারের সাবেক মন্ত্রীরা বুধবার (২৩ জুলাই ২০২৫) একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন। এটি বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (বিএইচআরডব্লিউ) নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে আহ্বান করা হয়েছিল, যার অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে ৫টায় এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। আয়োজক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, যিনি নিজেকে উক্ত সংগঠনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার মহাসচিব হিসেবে দাবি করেন, জানিয়েছিলেন যে সম্মেলনে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও সাবেক মন্ত্রীরা গোপালগঞ্জের সামপ্রতিক সহিংসতা এবং বাংলাদেশে কথিত ‘গণহত্যা’র বিষয়ে বক্তব্য রাখবেন। তবে, ভারত সরকারের অনুমোদন না পাওয়ায় এবং ঢাকায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ৩৫ জনের বেশি মানুষের (বেশিরভাগ শিশু) মৃত্যু ও প্রায় ১৭০ জনের আহত হওয়ার প্রেক্ষিতে সম্মেলনটি স্থগিত করা হয়।

মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী এক বিবৃতিতে বলেন, “এই গভীর শোকাবহ পরিস্থিতিতে এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমরা সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে এজন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। জানা গেছে, গত কয়েকদিনে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা যেমন ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, হাসান মাহমুদ ও মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল দিল্লি সফর করেছেন এবং তাদের কয়েকজনের এই সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত কার্যালয় পরিষ্কার করছে ছাত্র-জনতা

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে কথিত ‘গণহত্যা’র অভিযোগ তুলে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে, দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, বাংলাদেশ সরকার এই সম্মেলন নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অনানুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। বিশেষ করে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের এক বছর পূর্তির প্রেক্ষিতে এমন একটি বিতর্কিত অনুষ্ঠান প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর থেকে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা দেশত্যাগ করেছেন, এবং কেউ কেউ ভারতে অবস্থান করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *