স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে একটি নির্দিষ্ট মহলের কার্যকলাপকে দায়ী করে বলেন, এই ঘটনার পেছনে ভারত এবং পতিত ফ্যাসিস্টদের উস্কানি রয়েছে। সরকার এই অস্থিতিশীলতা নির্মূল করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।
সোমবার রাজধানীর পুরাতন রমনা থানা চত্বরে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে তাঁর বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব মন্তব্য জানান উপদেষ্টা। অনুষ্ঠানে রাজধানীর আদাবর, কদমতলী, ভাষানটেক, রমনা ও রামপুরা থানার নবনির্মিত ভবনের ফলক উন্মোচন করা হয়। এই উদ্বোধনের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের অবকাঠামোগত উন্নয়নকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় জানান তিনি।
দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে পালনের জন্য সরকারের পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে যাতে উৎসব অবাধে সম্পন্ন হয়। তবে একটি মহল এই উদযাপন ব্যাহত করার চেষ্টা করছে।” খাগড়াছড়ির অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসায় তিনি যুক্ত করেন, “ভারত বা ফ্যাসিস্টদের ইন্ধনে এ ঘটনা ঘটছে। আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছি যাতে কোনো অশান্তি ছড়াতে না পারে।”
সাম্প্রতিক সময়ে খাগড়াছড়িতে একটি স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে সড়ক অবরোধ, ১৪৪ ধারা জারি এবং সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সেনাবাহিনী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দুষ্কৃতিকারীদের হামলায় তিনজন পাহাড়ি নিহত হয়েছেন এবং সেনা-পুলিশের অনেক সদস্য আহত। এই ঘটনাগুলোকে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়ানোর উদ্দেশ্য বহন করে।
সরকারের পক্ষ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের উপদেষ্টা বৈঠক ডেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপদেষ্টা জানান, আইনশৃঙ্খলা নির্বাহে পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় নির্বাচন এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান রোধে বিশেষ নজরদারি চালু করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: দুর্গাপূজা নিয়ে গুজব ছড়ালে কঠোর শাস্তি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, দেশজুড়ে ৪ লক্ষের বেশি নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে সকল ধর্মাবলম্বীরা নির্ভয়ে উৎসব পালন করতে পারেন। তিনি সকলকে শান্তিপূর্ণ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “কোনো শক্তিশালী গোষ্ঠী এ দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারবে না।”



























































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































