অতিরিক্ত হর্ন বাজানোর জন্য এবার পুলিশের জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে। ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫’-এর কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) একটি পত্র জারি করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।

পত্রে বলা হয়েছে, গত ২৪ নভেম্বর গেজেট জারি হওয়া বিধিমালার বিধি-৬ অনুযায়ী কোনো মোটরযান বা নৌযানে অনুমোদিত শব্দমান অতিক্রমকারী হর্ন স্থাপন বা ব্যবহার করা যাবে না। নীরব এলাকা (হাসপাতাল, স্কুল, আদালত চত্বরসহ) এবং আবাসিক এলাকায় রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিধি-২০ অনুযায়ী এসব নিয়ম লঙ্ঘন করলে পুলিশ কর্মকর্তারা সরাসরি জরিমানা আরোপ করতে পারবেন।

মন্ত্রণালয় জানায়, অতিমাত্রায় শব্দদূষণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে। এতে কানে কম শোনা, আংশিক বা সম্পূর্ণ বধিরতা, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রা, মনোসংযোগের অভাবসহ বিভিন্ন শারীরিক-মানসিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভপাত, গর্ভস্থ শিশুর বধিরতা বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর জন্মের ঝুঁকি বাড়ছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন হাসপাতালের রোগী, শিক্ষার্থী, ট্রাফিক পুলিশ, রিকশা-গাড়ির চালক, পথচারী এবং উচ্চ শব্দের উৎসের কাছাকাছি বাসিন্দা ও শ্রমিকরা। ফলে দেশের মানবসম্পদের উৎপাদনশীলতা কমছে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় গড় শব্দের মাত্রা ৭০-৮০ ডেসিবল, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মান (৫৫ ডেসিবল দিনে, ৪০ ডেসিবল রাতে) থেকে অনেক বেশি। হাইড্রলিক হর্নের শব্দ ১১০-১২০ ডেসিবল পর্যন্ত পৌঁছায়, যা মানুষের শ্রবণশক্তির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

মন্ত্রণালয়ের পত্রে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিধিমালা কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে। এর ফলে অতিরিক্ত হর্ন ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং জরিমানা আরোপের প্রক্রিয়া শুরু হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ সফল হলে শহরের শব্দদূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নতি হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *