খালেদা জিয়া-khaleda zia-bnp-newsedge24

বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আজ শুক্রবার একটি নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত হবে। এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং গণতন্ত্রের জন্য সারা জীবন সংগ্রাম করে যাওয়া এই নেত্রীর প্রতি জাতীয় পর্যায়ের মর্যাদাপূর্ণ শ্রদ্ধা নিবেদনের এক মানবিক উদ্যোগ।

শোকসভাটি দুপুর আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জিয়া পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, বিশিষ্ট ব্যক্তি, পেশাজীবী সমাজের প্রতিনিধি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য এই শোকসভায় বক্তব্য দেবেন শুধুমাত্র পেশাজীবী সমাজের আমন্ত্রিত ব্যক্তিরা। কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা মঞ্চে বক্তব্য রাখবেন না। বিভিন্ন পেশার শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব, গবেষক, ধর্মীয় প্রতিনিধি, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, চিকিৎসক, শিক্ষকসহ অন্যান্য পেশাজীবীরা ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ খ্যাত বেগম খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, দীর্ঘ সংগ্রামী অভিজ্ঞতা ও আদর্শ নিয়ে স্মৃতিচারণ করবেন।

নাগরিক শোকসভা আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ গতকাল রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে পুরো দেশ গভীর শোকে নিমজ্জিত হয়। তার জানাজা পরিণত হয় বিশাল শোকসাগরে। তা সত্ত্বেও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে স্মরণ করা এবং তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণের একটি দায়বদ্ধতা রয়ে গেছে। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই এই শোকসভার আয়োজন।

আরও পড়ুন: মতপার্থক্য থাকলেও মতবিভেদের দিকে যাওয়া যাবে না: তারেক রহমান

তিনি আরও বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক দলভিত্তিক অনুষ্ঠান নয়। রাজনৈতিক নেতাদের মঞ্চে বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া হবে না; তারা শুধু অতিথি হিসেবে দর্শকসারিতে উপস্থিত থাকবেন। এই শোকসভা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গাম্ভীর্যপূর্ণ ও মর্যাদাবান অনুষ্ঠান হিসেবে স্থান করে নেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কিছু নির্দেশনা জারি করা হয়েছে:

  • সবাইকে সাদা-কালো পোশাক পরিধান করে আসতে হবে।
  • অনুষ্ঠানস্থলে সেলফি তোলা, হাততালি দেওয়া বা অযথা দাঁড়িয়ে থাকা যাবে না।
  • গেট খুলবে দুপুর ১২টায়।
  • প্রবেশের জন্য নির্ধারিত গেট নম্বর ৬ ব্যবহার করতে হবে।
  • বের হতে হবে আসাদ গেট দিয়ে।
  • গাড়ি পার্কিং করতে হবে বাণিজ্য মেলার (পুরাতন) মাঠে (গেট নম্বর ১ ও ১২ দিয়ে প্রবেশ)।
  • গেট নম্বর ১২ (বকুলতলা গেট) দিয়ে শুধু পায়ে হেঁটে প্রবেশ সম্ভব।
  • আমন্ত্রণপত্র ছাড়া প্রবেশ করা যাবে না।
  • মিডিয়াকর্মীদের জন্যও আমন্ত্রণপত্র বাধ্যতামূলক।

আয়োজকরা জানান, প্রয়োজনে তালিকাভুক্ত অতিথিদের জন্য বিকল্প প্রবেশপত্রের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *