হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিদায়ী নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মো. কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিমানবন্দরটি প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা আয় করেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১১% বেশি। বছরে ৮০ লাখ যাত্রী সেবার সক্ষমতা থাকলেও গত বছর ১ কোটি ২০ লাখ যাত্রী এই বিমানবন্দর ব্যবহার করেছেন। তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে যাত্রী সংখ্যা ও সেবার মান আরও বাড়বে। বুধবার (১৪ মে ২০২৫) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএবি) সদর দপ্তরে ‘এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্ট ফোরাম অফ বাংলাদেশ (এটিজেএফবি)’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানটি কামরুল ইসলামকে বিদায় সংবর্ধনা ও নতুন নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে স্বাগত জানাতে আয়োজিত হয়। কামরুল ২০২২ সালের ২২ মার্চ থেকে তিন বছর দুই মাস শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক ছিলেন। তার সময়ে সেবার মান উন্নতি যাত্রীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও তিনি বিমানবন্দরের কার্যক্রম সচল রাখেন। গত ৭ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে রাগীব সামাদকে নতুন নির্বাহী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কামরুল এই সপ্তাহের মধ্যে বিমান বাহিনীতে ফিরবেন।
কামরুল বলেন, গত বছর যাত্রী চলাচল ৭% বেড়েছে, মূলত অভিবাসী কর্মীদের কারণে। তিনি অভিবাসীদের জন্য সম্মানজনক সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছেন। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ৮৫% লাগেজ স্ট্যান্ডার্ড সময়ে (১ ঘণ্টা) বিতরণ, এবং হটলাইনের মাধ্যমে ৯০% অভিযোগ নিষ্পত্তি তার সময়ের উল্লেখযোগ্য অর্জন। তিনি জানান, সরকার অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জেট ফুয়েলের দাম কমিয়েছে, যা ভাড়া হ্রাস ও বাজার প্রসারে সহায়ক হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিমান পরিবহন খাতের জিডিপি অবদান আগামী পাঁচ বছরে ৫-৬%-এ পৌঁছাতে পারে, যা বর্তমানে ১%-এর কম। তিনি গণমাধ্যমের গঠনমূলক প্রতিবেদনের প্রশংসা করে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার আহ্বান জানান।
নবনিযুক্ত নির্বাহী পরিচালক রাগীব সামাদ বলেন, “বিমানবন্দর একটি দেশের প্রতিচ্ছবি। তৃতীয় টার্মিনালে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে অপারেশন শুরু করা আমার চ্যালেঞ্জ।” তিনি স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে যাত্রীসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
এটিজেএফবি সভাপতি তানজিম আনোয়ার বলেন, কামরুল ইসলাম সাংবাদিকদের তথ্য প্রদানে স্বচ্ছ ছিলেন এবং কর্মশালার মাধ্যমে এভিয়েশন খাতের জটিল বিষয়ে সাংবাদিকদের ধারণা দিয়েছেন। তিনি তথ্য আগলে না রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এটিজেএফবি’র সাধারণ সম্পাদক বাতেন বিপ্লব।



























































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































