ইশরাক হোসেনের মশক নিধন কার্যক্রম উদ্বোধন-newsedge24

বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন বুধবার (১৮ জুন ২০২৫) দুপুরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগরভবনে মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন। তিনি আন্দোলনকারীদের ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ফগিং মেশিন চালিয়ে এই কার্যক্রম শুরু করেন।

ইশরাক হোসেনকে ডিএসসিসির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার দাবিতে নগরভবনে ঢাকাবাসীর ব্যানারে তার সমর্থকরা এবং সিটি করপোরেশনের কর্মচারীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। গত ২৭ মার্চ ২০২৫-এ ঢাকার নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল বাতিল করে ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করে, এবং ২৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন (ইসি) এই ঘোষণার গেজেট প্রকাশ করে। তবে আইনি জটিলতার কারণে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এখনো তার শপথের আয়োজন করেনি। এর প্রতিবাদে গত ১৫ মে থেকে ইশরাকের সমর্থকরা নগরভবনে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন, যার ফলে ডিএসসিসির দৈনন্দিন কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধনের আগে দেওয়া বক্তব্যে ইশরাক বলেন, “আমাদের আন্দোলন চলমান থাকলেও নাগরিকদের জরুরি সেবা আমাদের তত্ত্বাবধানে চলছে। সামনে ডেঙ্গুর মৌসুম আসছে, তাই মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।” তিনি জানান, মশক নিধন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ, এবং লাইটিংয়ের মতো সেবাগুলো চলমান রয়েছে এবং ডেঙ্গু সংক্রমণ মনিটরিংয়ের জন্য ওয়ার্ডভিত্তিক সেল গঠন করা হবে।

ইশরাক অভিযোগ করেন, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের কাজে বাধা দিচ্ছেন, যা নাগরিক সেবায় বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। তিনি দাবি করেন, সরকার তাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে এবং তাদের যৌক্তিক দাবি উপেক্ষা করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা নগরভবন ছাড়ব না।”

২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ডিএসসিসির নির্বাচনে ইশরাক হোসেন বিএনপির প্রার্থী ছিলেন, কিন্তু আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস বিজয়ী হন। ইশরাক অভিযোগ করেন, নির্বাচনে ইভিএম জালিয়াতি, ভোটারদের বাধা, এবং তার কর্মী ও এজেন্টদের ওপর হামলা হয়েছিল। এই অভিযোগে তিনি ২০২০ সালের ৩ মার্চ মামলা করেন। ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ট্রাইব্যুনাল ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করে। তবে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিলম্ব এবং হাইকোর্টে রিট খারিজের পর আপিল বিভাগে শুনানি চলমান রয়েছে।

ইশরাক নগরভবনে নিজেকে “মাননীয় মেয়র” হিসেবে উল্লেখ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সভা করেছেন এবং ফুলেল শুভেচ্ছা ও ক্রেস্ট গ্রহণ করেছেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, নগরভবনের কার্যক্রম তাদের তত্ত্বাবধানে চলবে, তবে জরুরি সেবা অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, “আমি সাংবিধানিকভাবে এবং জনগণের ভোটে বৈধ মেয়র।”

ইশরাকের অবস্থান কর্মসূচির কারণে নগরভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলছে, যা সিটি করপোরেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। তবে তিনি দাবি করেন, জন্ম নিবন্ধনসহ জরুরি সেবা চালু রয়েছে। ডেঙ্গুর মৌসুমকে সামনে রেখে মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগকে তিনি নাগরিক সেবার প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি হিসেবে উল্লেখ করেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে তার অভিযোগ এবং আইনি জটিলতা এই আন্দোলনকে আরও জটিল করে তুলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *