ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি-newsedge24

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাজসাক্ষী হিসেবে জেরার সময় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন জানিয়েছেন, তার চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দুই দফায় মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। প্রথম দফায় তিনি রাজি থাকলেও দ্বিতীয়বার তিনি এই পদে থাকতে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আপত্তি সত্ত্বেও পুলিশে গোপালগঞ্জ দ্বন্দ্ব আড়ালে রাখতে ফের আইজিপি করা হয় আমাকে।’

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে আসামিপক্ষের আইনজীবী আমীর হোসেন মামুনের জেরা করেন। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার রাজসাক্ষীর জবানবন্দি দেন মামুন।

তিনি আরও জানান, ১০১৮ সালের নির্বাচনে কারচুপিতে সহযোগিতার কারণে তিনিসহ অনেক পুলিশ অফিসার বিপিএম (বাংলাদেশ পুলিশ পদক) ও পিপিএম (প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক) পেয়েছিলেন। তবে, এই পদকগুলো কেবল নির্বাচনে কারচুপির জন্যই দেয়া হয়েছিল কিনা, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

তিনি জানান, ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় তিনি ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তৎকালীন আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাতের বেলায় ব্যালট বক্সে প্রায় ৫০% ভোট রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে তিনি শুনেছেন। মাঠ পর্যায়ে সরকারের পক্ষ থেকে রাতে ব্যালট বক্সে ভোট দেয়ার নির্দেশনা পাঠানো হয়েছিল। এতে জেলা প্রশাসন, ডিসি, ইউএনও, এসিল্যান্ড, এসপি এবং থানার ওসিরা রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।

মামুন আরও জানান, নির্বাচনসহ রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সক্রিয় পুলিশ অফিসারদের বিপিএম (বাংলাদেশ পুলিশ পদক) ও পিপিএম (প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক) দেয়ার ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়। তিনি নিজেও ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে-পরে তিনটি বিপিএম ও পিপিএম পদক পেয়েছিলেন। তবে, এই পদকগুলো কেন দেয়া হয়েছিল, তা তিনি নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে সঠিকভাবে পেশাদারিত্ব দেখানো হয়নি।’

আরও পড়ুন: ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দিতে যা যা বললেন সাবেক আইজিপি মামুন

পুলিশ বাহিনীতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ প্রসঙ্গে মামুন বলেন, ২০১৮ সালের পর থেকে পুলিশে রাজনৈতিক প্রভাব ও হস্তক্ষেপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। কতিপয় পুলিশ অফিসার প্রভাবশালী হিসেবে স্বীকৃতি পান এবং তারা বাহিনীর চেইন অব কমান্ড ভঙ্গ করে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় প্রতি রাতে মিটিং করতেন। মামুন জানান, তিনি এসব মিটিংয়ে অংশ নিতেন না এবং অন্য অফিসারদেরও তাতে যোগ না দেয়ার জন্য বলতেন। কিন্তু তারা তার কথা শোনেননি।

এই মামলায় সাবেক আইজিপির সাক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এটি নির্বাচনী কারচুপি এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের সঙ্গে জড়িত। বিচারিক প্যানেল এই সাক্ষ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *