রাষ্ট্রপতি-সাহাবুদ্দিন-newsedge24

সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি ধারণ করা হচ্ছে। এই নীতির মধ্য দিয়েই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আধুনিক ও শক্তিশালী হবে।

আজ রোববার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সেনাবাহিনীর সুনাম আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুবিদিত। প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টও তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। পিজিআর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অন্যতম বিশেষায়িত, সুশৃঙ্খল ও পেশাদার সামরিক ইউনিট। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিদেশি অতিথি এবং অন্যান্য অতি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে দেশের মর্যাদার প্রতীক হিসেবে বাহিনীটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছে।

সময়ের সঙ্গে দায়িত্বের পরিধি বৃদ্ধির কারণে পিজিআরের সাংগঠনিক কাঠামোয় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে এবং এটি এখন একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বর্তমান বিশ্বে নিরাপত্তার ধারণা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “প্রচলিত নিরাপত্তা ঝুঁকির পাশাপাশি সাইবার হামলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং বিভিন্ন ধরনের হাইব্রিড নিরাপত্তা হুমকি নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। এসব মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা বৃদ্ধি, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, কার্যকর কৌশল এবং সার্বক্ষণিক প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই।”

আরও পড়ুন: আযমীসহ ১৫০ সামরিক কর্মকর্তাকে স্বাভাবিক অবসর ও ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি

পিজিআরের সদস্যদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাদের দায়িত্ব অত্যন্ত স্পর্শকাতর, গৌরবময় ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ। প্রতিকূল আবহাওয়া, জটিল পরিস্থিতি কিংবা দীর্ঘ কর্মঘণ্টা—সব ক্ষেত্রেই নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি সদস্যদের প্রশংসা করেন।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং দেশি-বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের মর্যাদার বিষয়ও জড়িত। তাই অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আরও কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে পিজিআর আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত উৎকর্ষ অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করবে এবং পরিবর্তিত বৈশ্বিক নিরাপত্তা কৌশলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাবে।

আরও পড়ুন: জুলাই অভ্যুত্থান কোনো একক দল বা ব্যক্তির নয়: প্রধানমন্ত্রী

বক্তব্যের শুরুতে রাষ্ট্রপতি মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের স্মরণ করেন। একই সঙ্গে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বীর উত্তম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও উল্লেখ করেন।

এ ছাড়া ১৯৮১ সালের ৩০ মে শহীদ হওয়া প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের পাঁচ সদস্যসহ বাহিনীর সব প্রয়াত সদস্যকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের প্রতি সমবেদনাও জানান তিনি।

1 comment on “সশস্ত্র বাহিনীকে চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: রাষ্ট্রপতি”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *