আলোচিত আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের ডক্টরেট ডিগ্রি ভুয়া বলে নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়ার সিডনির ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলস (ইউএনএসডব্লিউ)। বিশ্ববিদ্যালয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছে, তুরিন আফরোজ তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেননি, এমনকি তার নামে কোনো শিক্ষার্থীর রেকর্ডও তাদের কাছে নেই।
রোববার (৪ মে ২০২৫) এই তথ্য সংবলিত একটি নথি রাষ্ট্রপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে দাখিল করেছে। আইনজীবী ব্যারিস্টার সাজ্জাদ হায়দার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের কাছে তুরিন আফরোজের শিক্ষাগত নথি চাওয়া হয়েছিল। তারা ই-মেইলে জানিয়েছে, তার নামে কোনো পিএইচডি ডিগ্রির রেকর্ড নেই এবং এই নামে কোনো শিক্ষার্থী তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েননি।”
এই তথ্য উত্থাপিত হয়েছে তুরিন আফরোজের পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত একটি মামলার প্রেক্ষিতে। মামলাটি রাজধানীর উত্তরার রেসিডেনশিয়াল মডেল টাউনের ৩ নম্বর সেক্টর, ১১ নম্বর সড়কের ১৫ নম্বর প্লটে অবস্থিত একটি পাঁচতলা বাড়ির মালিকানা ও ভোগদখল নিয়ে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, হাইকোর্টের বিচারপতি মো. সেলিমের একক বেঞ্চ এই বাড়িতে তুরিন আফরোজের মা শামসুন্নাহার বেগম এবং ভাই শিশির আহমেদ শাহনেওয়াজ আহমেদের বসবাসের ক্ষেত্রে বিচারিক আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ বাতিল করে রায় দেন। এর ফলে তাদের বাড়িতে বসবাসে কোনো আইনগত বাধা নেই।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, শামসুন্নাহার বেগম ১৯৯১ সালে উত্তরার এই সম্পত্তি ক্রয় করেন এবং ১৯৯৭ সালে তার ছেলে শাহনেওয়াজকে হেবা (দানপত্র) করেন। ১৯৯৯ সালে শাহনেওয়াজের নামে সম্পত্তিটি নামজারি হয়, এবং হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন থেকে ২৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ২০০২ সাল থেকে তারা বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। তবে তুরিন আফরোজ দাবি করেন, তার বাবা তসলিম উদ্দিন ১৯৯৪ সালে তাকে সম্পত্তিটি হেবা করেছিলেন। শামসুন্নাহার ও শাহনেওয়াজ এই দাবি অস্বীকার করে বলেন, এমন কোনো দানপত্র হয়নি।
এর আগে, ১৩ মার্চ ২০২৫-এ আপিল বিভাগে মামলার শুনানিতে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক বলেন, “তুরিন আফরোজ আইসিটির প্রসিকিউটর থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তিনি পরাক্রমশালী ছিলেন এবং এক মুহূর্তের মধ্যে তার মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন।” তিনি শামসুন্নাহার বেগমের বাড়িতে বসবাসের জন্য আদালতের নির্দেশনা প্রার্থনা করেন।
এছাড়া, তুরিন আফরোজকে ২০১৯ সালে আইসিটির প্রসিকিউটর পদ থেকে অপসারণ করা হয়। সরকার তাকে “শৃঙ্খলা ও পেশাগত আচরণ ভঙ্গ এবং গুরুতর অসদাচরণের” অভিযোগে অপসারণ করে, যার মধ্যে একটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামীর সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগও ছিল।
তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চে তার বিরুদ্ধে উত্তরার পশ্চিম থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের হয়, যেখানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তি তাকে অভিযুক্ত করেন। এই মামলায় তাকে ৬ এপ্রিল ২০২৫-এ গ্রেপ্তার করা হয়।




























































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































