কে এম নূরুল হুদার গ্রেপ্তার-newsedge24

সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদাকে ২২ জুন ২০২৫ সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার ৫ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাকে শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কার্যালয়ে নেওয়া হয়, এবং ২৩ জুন ২০২৫ সকালে রিমান্ডের জন্য আদালতে হাজির করা হতে পারে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২২ জুন ২০২৫ দুপুরে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করে, যেখানে ২০১৪, ২০১৮, এবং ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে সাবেক তিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ ২৪ জনকে আসামি করা হয়। মামলাটি দায়ের করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. সালাহউদ্দিন খান। অভিযোগে বলা হয়, এই নির্বাচনগুলোতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় ব্যাপক কারচুপি হয়েছে, বিশেষ করে ২০১৮ সালের নির্বাচনকে “নিশিরাতের নির্বাচন” হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

আসামিদের তালিকা

মামলায় নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে:

  • সাবেক প্রধানমন্ত্রী: শেখ হাসিনা
  • সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনারগণ: কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদ (২০১৪), কে এম নূরুল হুদা (২০১৮), কাজী হাবিবুল আউয়াল (২০২৪)
  • সাবেক নির্বাচন কমিশনারগণ: মো. আব্দুল মোবারক, আবু হানিফ, জাবেদ আলী, শাহ নেওয়াজ, রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, আহসান হাবীব, আলমগীর হোসেন, আনিছুর রহমান
  • সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: আসাদুজ্জামান খান কামাল
  • সাবেক আইজিপিগণ: হাসান মাহমুদ খন্দকার, জাবেদ পাটোয়ারী, বেনজীর আহমেদ, এ কে এম শহীদুল হক
  • অন্যান্য: সাবেক এসবি প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম, সাবেক ডিজিএফআই প্রধান (নাম অজ্ঞাত), সাবেক এনএসআই প্রধান সৈয়দ নূরুল আলম, তৎকালীন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, তৎকালীন নির্বাচন সচিব (নাম অজ্ঞাত)
  • অজ্ঞাতনামা আসামি: আরও কয়েকজন

নূরুল হুদাকে আটকের সময় স্থানীয় জনতা তার গলায় জুতার মালা পরিয়ে এবং ডিম ছুড়ে হেনস্তা করে, যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে জনতাকে স্লোগান দিতে শোনা যায়, যেখানে তারা নূরুল হুদাকে “স্বৈরাচারের দোসর” আখ্যা দিয়ে বলেন, এই ঘটনা ভবিষ্যতে নির্বাচন কমিশনারদের জন্য শিক্ষা হবে।

কে এম নূরুল হুদা ১৯৭৩ সালের বিসিএস মুক্তিযোদ্ধা ব্যাচে সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ৯ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অংশ নেন। তিনি ফরিদপুর ও কুমিল্লায় জেলা প্রশাসক, ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালে তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান এবং ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা করেন, যেখানে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ওঠে।

২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, জখম ও হত্যার অভিযোগ উঠেছিল। বিশেষ করে, ভোটের আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরে রাখার অভিযোগে এই নির্বাচন “নিশিরাতের নির্বাচন” নামে পরিচিতি পায়। নূরুল হুদা এই অভিযোগের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে নির্বাচনের পক্ষে সাফাই গেয়েছিলেন, যা তাকে বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে আসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *