পাগলা মসজিদ-newsedge24

কিশোরগঞ্জ পৌর শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলা হয়েছে। সাধারণত তিন মাস পরপর দানবাক্স খোলা হলেও এবার ৪ মাস ১৭ দিন পর, শনিবার (৩০ আগস্ট ২০২৫) সকাল ৭টায়, মসজিদের ১৩টি লোহার দানবাক্স থেকে ৩২ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা এবং স্বর্ণের গয়নাও পাওয়া গেছে। বর্তমানে টাকা গণনার কাজ চলছে, যাতে প্রায় ৫০০ জনের একটি দল অংশ নিয়েছে।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক এবং পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “এবার আমরা চার মাস ১৭ দিন পর দানবাক্স খুলেছি। এবার রেকর্ড ৩২ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। ব্যাংক কর্মকর্তা ও মাদ্রাসার ছাত্ররা টাকা গণনার কাজ করছেন।”

পাগলা মসজিদের ঐতিহাসিক পটভূমি

পাগলা মসজিদ কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত, যা প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো। জনশ্রুতি আছে, একজন আধ্যাত্মিক পাগল সাধক নরসুন্দা নদীর মধ্যবর্তী চরে বসবাস করতেন। তার মৃত্যুর পর সেখানে মসজিদ নির্মিত হয়, যা ‘পাগলা মসজিদ’ নামে পরিচিতি লাভ করে। এই মসজিদে মানত করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়—এমন বিশ্বাসের কারণে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশ-বিদেশের মানুষ এখানে দান করে থাকেন।

আরও পড়ুন: পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার ইতিহাস সৃষ্টি করে রেকর্ড ৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা সংগ্রহ

জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান জানিয়েছেন, পাগলা মসজিদের আয় দিয়ে একটি আধুনিক ইসলামি কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই কমপ্লেক্সে থাকবে এতিমখানা, ধর্মীয় শিক্ষা কেন্দ্র, পাঠাগার, ক্যাফেটেরিয়া এবং আইটি সেকশন। বর্তমানে মসজিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৯০ কোটি টাকা জমা রয়েছে।

গণনা কার্যক্রমটি মসজিদের দোতলায় চলছে, যেখানে বস্তাবন্দি টাকাগুলো ঢেলে গণনা শুরু হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন হচ্ছে, যেখানে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও আনসার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *