ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালন ও ভোটগ্রহণ কার্যক্রমে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ ব্যক্তিদের দায়িত্ব না দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অনুরোধ জানিয়েছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাত করে এই দাবি জানায়। দলটি নির্বাচনের আগে প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল করে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ এবং প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা হিসেবে দলীয় পরিচয়ের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাউকে নিয়োগ না দেওয়ার দাবি তুলেছে।
ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, “নির্বাচন একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। পাঁচজন নির্বাচন কমিশনারের পক্ষে এটি আয়োজন করা সম্ভব নয়। এর জন্য বিশাল ম্যানপাওয়ার প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশন সরকার থেকে কয়েকদিনের জন্য কর্মকর্তাদের ধার করে আনে। সংবিধান অনুযায়ী, তারা নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই বিশাল জনগোষ্ঠী কারা হবে? আমরা হিসাব করে দেখেছি, কমপক্ষে ১০ লাখ লোকের প্রয়োজন হবে। এরা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও বিচার বিভাগ থেকে আসেন। আইন-শৃঙ্খলার জন্য সামরিক বাহিনীর সহায়তাও আমরা কামনা করি।”
তিনি আরও বলেন, “আইন অনুযায়ী প্রশাসনের কর্মকর্তারা কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে পারেন না। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বিগত ১৭ বছরে প্রশাসন রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। বিগত তিনটি নির্বাচন ছিল প্রহসন। এর জন্য দায়ী ছিলেন সরকারি কর্মকর্তারা, যারা নির্বাচন কমিশনের পক্ষে কাজ করেছিলেন।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আওয়ামী লীগ ১৫ বছরে যাদের চরিত্র হনন করেছে, ১৫ মাসে তা শোধরানো সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক থাকতে হবে। তাদের নিজস্ব ১০ লাখ লোকবল নেই। তাই এ বিষয়ে সচেতন করা হয়েছে।”
আরও পড়ুন: নির্বাচনে অপতথ্য রোধে সোচ্চার থাকতে হবে: সিইসি
নির্বাচনের দিন বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মানুষের অন্তরে গণতন্ত্র রয়েছে। বিগত ১৫ বছরে তারা গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটের মাধ্যমে তারা তাদের অধিকার প্রয়োগ করবে। তখন নির্বাচন উৎসবমুখর হবে, এবং আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে আশঙ্কা থাকবে না। তবে, নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারকে এমনভাবে কাজ করতে হবে যেন জনগণ বুঝতে পারে তাদের ফলাফলে কোনো স্বার্থ নেই।”
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জোট বা কোয়ালিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কোয়ালিশন একটি স্বীকৃত পন্থা। ২০০১ সালে আমরা জামায়াতের সঙ্গে প্রাক-নির্বাচনী জোট করেছিলাম। যা আশ্চর্য কিছু নয়। এখনো বিএনপি এ বিষয়ে উন্মুক্ত। যথাসময়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

























































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































