স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-সালাহউদ্দিন আহমদ-newsedge4

শ্রমিক আন্দোলনের নামে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে অনেকেই ভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে সীমান্তের ওপারের ইশারায় দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছেন।

আজ সোমবার বেলা ১১টায় সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গার্মেন্টস মালিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাস্তায় আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে। যারা শ্রমিকদের আন্দোলনের নামে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবে বা আইনের বাইরে গিয়ে কোনো কার্যক্রম চালাবে তাদের স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

কিছু পতিত শক্তির দোসর এখানে আছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই কয়েকদিন যারা অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে সেখানে কোনো শ্রমিক ভাইবোন ছিলেন না। ভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে সীমান্তের ওপারের ইশারায় অনেকেই দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছেন।

বন্ধ কারখানার বিষয়ে তিনি বলেন, শিল্প মালিকদের সহযোগিতা চেয়েছি। শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বন্ধ কারখানা খুলে দেবেন এবং যাদের কারখানা বন্ধ থাকবে তাদের তালিকা দেবেন।

শ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠিত হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আজ হয়তো তাদের প্রথম সভা হতে পারে বা সম্ভাব্য স্বল্প সময়ে তারা বসবেন। আলাপ-আলোচনা হবে। সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যথা শিগগির সম্ভব তাদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করে ঘোষণা হতে পারে।

আরও পড়ুন: মজুরি বোর্ড গঠন, শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান

তিনি আরও বলেন, সময় রেখা তিন বছর পূর্ণ হতে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় আছে। আশা করি, তারা সব পক্ষের সঙ্গে আলাপ করে ন্যূনতম মজুরি ঠিক করতে পারবেন।

এর আগে পোশাকশিল্পের অস্থিরতা নিরসনের লক্ষ্যে গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সচিবালয়ে বৈঠক শুরু হয়। এতে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন ছাড়াও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদসহ ঊর্ধ্বতন কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাও বৈঠকে অংশ নেন।

শ্রমিকদের আন্দোলন ও পোশাক কারখানায় অস্থিরতা নিরসনে গতকাল রোববার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর এ বৈঠক হয়। এর আগে এদিন শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে ছয় সদস্যের নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়।

শ্রমিকদের দাবি, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। এ দাবিতে ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় এবং রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে আন্দোলন চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *