সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান -newsedge24

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণা করেছেন, এবং এই সময়সীমার এক দিনও এদিক-সেদিক হওয়ার সুযোগ নেই। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব শুধু নির্বাচন আয়োজন নয়, সংস্কার ও বিচার প্রক্রিয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সমিতির ২৪তম জাতীয় সম্মেলন ও বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানান, বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের সভার পর দীর্ঘ আলোচনায় তিনটি মূল দায়িত্ব চিহ্নিত করা হয়েছে: সংস্কার, বিচার, এবং নির্বাচন। তিনি বলেন, “আমরা শুধু নির্বাচন করার জন্য দায়িত্ব নিইনি। সংস্কার ও বিচার প্রক্রিয়াও আমাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।” তিনি আরও বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠীর দাবি নিয়ে রাস্তা অবরোধের কারণে ঢাকার যানজট অচল হয়ে পড়ছে, যা সরকারের কাজে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি জনগণের সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমাদের দায়িত্ব পালন তখনই সম্ভব হবে, যখন আমরা সবার সহযোগিতা পাব।”

নির্বাচন প্রসঙ্গে রিজওয়ানা হাসান বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচনের সময়সীমা দিয়েছেন। এর এক দিনও এদিক-সেদিক হওয়ার সুযোগ নেই।” তিনি সমালোচনা করে বলেন, এই সময়সীমা বারবার ঘোষণা করা সত্ত্বেও এ নিয়ে অন্য ধরনের আলোচনা অপ্রয়োজনীয়। তবে তিনি স্বীকার করেন, সংস্কার ও বিচারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য সময় প্রয়োজন, যা নির্বাচনের সময়সীমার সঙ্গে সমন্বয় করা চ্যালেঞ্জিং। তিনি বলেন, “যে প্রতিবন্ধকতাগুলো তৈরি হচ্ছে, সেগুলো কীভাবে মোকাবিলা করব, বা পারব কি না, আর না পারলে কী করণীয়—এসব নিয়ে আমরা চিন্তা করেছি।”

রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, “যদি আমরা দায়িত্ব পালন করতে পারি, তাহলে আমাদের দায়িত্বে থাকাটা প্রাসঙ্গিক। আর যদি না পারি, তাহলে আমাদের নিজস্ব কাজে ফিরে যাওয়াই যুক্তিসঙ্গত।” এই বক্তব্য প্রফেসর ইউনূসের পদত্যাগের সম্ভাবনার ইঙ্গিত বহন করে, যা তিনি ইতিপূর্বে অভ্যুত্থানের নেতাদের সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে উল্লেখ করেছিলেন।

বিএনপি গত বৃহস্পতিবার ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের জন্য সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে, এবং এর অন্যথায় সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা পুনর্বিবেচনার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এছাড়া, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের সময়সীমার ওপর জোর দিয়েছেন, যা ইউনূসের ঘোষিত সময়সীমার (ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে জুন ২০২৬) সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *