২০২৫ সালের ২৯ জুন, রোববার, ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্ক্যানিংয়ের সময় অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার হাতব্যাগে একটি গুলিবিহীন ম্যাগাজিন পাওয়া যায়। তিনি মরক্কোর মারাকেশে অনুষ্ঠিতব্য ‘ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল প্রোগ্রামে’ অংশ নিতে টার্কিশ এয়ারলাইনসের টিকে-৭১৩ ফ্লাইটে তুরস্ক হয়ে যাচ্ছিলেন। ঘটনাটি শনাক্ত হওয়ার পর তিনি ম্যাগাজিনটি তাঁর প্রটোকল অফিসারের কাছে হস্তান্তর করেন এবং দুঃখ প্রকাশ করেন।
আসিফ মাহমুদের ব্যাখ্যা
রোববার রাতে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে আসিফ মাহমুদ ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত বলে বর্ণনা করেন। তিনি জানান:
ভোরে প্যাকিংয়ের সময় তিনি তাঁর লাইসেন্সকৃত অস্ত্রসহ একটি ম্যাগাজিন বাসায় রেখে আসেন, কিন্তু ভুলবশত আরেকটি ম্যাগাজিন ব্যাগে থেকে যায়। স্ক্যানিংয়ে ধরা পড়ার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ম্যাগাজিনটি প্রটোকল অফিসারের কাছে হস্তান্তর করেন। তিনি বলেন, “বিষয়টি সম্পূর্ণ আনইন্টেনশনাল। শুধু ম্যাগাজিন দিয়ে আমি কী করব ভাই? ইন্টেনশন থাকলে অবশ্যই অস্ত্র রেখে আসতাম না।” নিরাপত্তার কারণে তাঁর কাছে লাইসেন্সকৃত বৈধ অস্ত্র রয়েছে, কারণ গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় তিনি একাধিকবার হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “যখন সরকারি প্রটোকল বা সিকিউরিটি থাকে না, তখন নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য লাইসেন্সড অস্ত্র রাখা স্বাভাবিক।”
সংবাদমাধ্যমে খবর সরানোর জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন, বলেন, “চাপ দিয়ে নিউজ সরানোর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ঘটনার পর আমি টিমসহ টানা ১০ ঘণ্টা ফ্লাইটে ছিলাম। ট্রানজিটে নেমে অনেকক্ষণ পর অনলাইনে এসে দেখি কত কিছু হয়ে গেছে।”
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ জানান, প্রি-বোর্ডিং স্ক্রিনিংয়ের সময় আসিফ মাহমুদের ছোট পাউচে ম্যাগাজিনটি শনাক্ত হয়। আসিফ মাহমুদ ভুলবশত ম্যাগাজিনটি ব্যাগে থাকার কথা জানান এবং দুঃখ প্রকাশ করেন। ম্যাগাজিনটি তাঁর প্রটোকল অফিসারের কাছে হস্তান্তর করা হয়, এবং তিনি ফ্লাইটে উঠতে পারেন।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিয়ম অনুযায়ী, কেবিন ব্যাগেজে ম্যাগাজিন বহন নিষিদ্ধ। তবে, লকড প্যাকেজে এবং পূর্বঘোষণার মাধ্যমে চেক-ইন লাগেজে ম্যাগাজিন বহন করা যায়।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়। কেউ কেউ এটিকে নিরাপত্তা লঙ্ঘন হিসেবে দেখলেও, আসিফ মাহমুদের ব্যাখ্যার পর অনেকে এটিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে গ্রহণ করেছেন।



















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































