সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-১১-newsedge24

কুমিল্লার মুরাদনগরে এক নারীকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী শাহ পরাণকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। শুক্রবার (৪ জুলাই ২০২৫) ঢাকার কাওরানবাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন এই তথ্য জানান।

শাহ পরাণ ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি ফজর আলীর ছোট ভাই, পূর্ব শত্রুতার জেরে এই ঘটনার পরিকল্পনা করেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং গ্রাম্য সালিশে ফজর আলীর হাতে শাহ পরাণের হেনস্থার প্রতিশোধ নিতে তিনি এই ঘটনা ঘটান। শাহ পরাণ ইমোর মাধ্যমে একটি বার্তা পাঠিয়ে একটি মব তৈরির পরিকল্পনা করেন। বার্তায় তিনি ফজর আলীকে শায়েস্তা করার জন্য অন্যদের উৎসাহিত করেন। বার্তা প্রাপকের নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি, কারণ তাকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। ফজর আলী ভুক্তভোগী নারীকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করছিলেন এবং ৫০ হাজার টাকা ধার দেওয়ার অজুহাতে তিনি নারীর বাসায় যাতায়াত করতেন। ঘটনার রাতে তিনি নারীর ঘরে প্রবেশ করে ধর্ষণ করেন।

র‍্যাব জানায়, শাহ পরাণ একজন সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক। তার কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। ধর্ষণ ও নির্যাতনের ভিডিও কে ধারণ করেছে এবং কে ছড়িয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। আরও কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য র‍্যাব কাজ করছে। শাহ পরাণকে মুরাদনগর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। ভুক্তভোগী নারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেছেন।

আরও পড়ুন: কুমিল্লার মুরাদনগরে মা ও ছেলে-মেয়েকে পিটিয়ে হত্যা

ঘটনাটি ২৬ জুন ২০২৫ রাতে মুরাদনগরের পাঁচকিত্তা গ্রামে সংঘটিত হয়। ভুক্তভোগী নারী তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। হাইকোর্ট ভুক্তভোগী নারীকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং ভিডিও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সামাজিক মাধ্যম থেকে সরানোর নির্দেশ দিয়েছে। ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে আরও চারজন (সুমন, রমজান, আরিফ, অনিক) গ্রেপ্তার হয়েছেন, এবং তাদের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলা হবে। ফজর আলীকে ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

তথ্যসূত্র: র‍্যাব সংবাদ সম্মেলন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *