জন্মাষ্টমীতে সেনাপ্রধানের সম্প্রীতির বার্তা বাংলাদেশ-সবার-newsedge24

সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জোর দিয়ে বলেছেন, “এই দেশ আমাদের সকলের। বাংলাদেশে সবার অধিকার সমান। এখানে ধর্ম-বর্ণের কোনো ভেদাভেদ থাকবে না।” শনিবার (১৬ আগস্ট ২০২৫) বিকেলে শ্রীকৃষ্ণের জন্মতীথি জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের কাছে পলাশীর মোড়ে আয়োজিত শোভাযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই বার্তা দেন।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, “বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। শত শত বছর ধরে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, পাহাড়ি, বাঙালি, উপজাতি—সবাই মিলে আমরা শান্তি ও সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছি। আজকের এই দিনে আমাদের অঙ্গীকার হবে, এই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ আমরা সব সময় বজায় রাখব।” তিনি আরও বলেন, “এখানে কোনো ধর্ম, জাতি, বর্ণ বা গোত্রের মধ্যে ভেদাভেদ থাকবে না। এই দেশ সবার, আমরা সবাই এই দেশের নাগরিক। প্রতিটি অধিকার আমাদের, সবার সমান অধিকার।”

তিনি সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে বলেন, “নৌবাহিনীর প্রধান ও বিমানবাহিনীর প্রধান এখানে উপস্থিত। সারা দেশে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন আছে। আমরা সবাই মিলে আপনাদের পাশে থাকব এবং একসঙ্গে কাজ করে যাব।” শ্রীকৃষ্ণের আদর্শের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ুক। এই আদর্শের ভিত্তিতে আমরা এ দেশে সুন্দরভাবে একসঙ্গে বসবাস করব।”

আরও পড়ুন: জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: প্রধান উপদেষ্টা

অনুষ্ঠানে বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান বলেন, “শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষা শুধু অসত্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহস জোগায় না, ন্যায়ের পথে চলতেও শেখায়। এই বাংলাদেশ আমাদের সবার। স্বাধীনতাকে রক্ষা করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। সবাই মিলে কাজ করলে আমরা বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশকে একটি মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারব।”

নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, “আসুন, পারস্পরিক সহনশীলতার মাধ্যমে দেশকে আরও শক্তিশালী করি।”

তিন বাহিনীর প্রধান মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও মহানগর পূজা উদ্যাপন কমিটির পরিচালনায় শোভাযাত্রাটি পলাশীর মোড় থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরাণ ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শেষ হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো এলাকা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে ছিল, এবং শোভাযাত্রা শুরুর আগে সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *