সজীব-ওয়াজেদ-জয়-newsedge24

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রে তার নামে পাঁচটি কোম্পানি, দুটি বাড়ি, আটটি বিলাসবহুল গাড়ি এবং ১০টি ব্যাংক হিসাবের সন্ধান পেয়েছে। এসব সম্পত্তির মূল্য প্রায় ৬০ কোটি টাকার বেশি বলে দুদকের দাবি, যা তার জ্ঞাত আয়ের বাইরে অর্জিত। তবে ব্যাংক হিসাব এবং কোম্পানিগুলোতে কত অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে, তা এখনও নির্ধারণ করা যায়নি।

দুদক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জয় তার পদবি ব্যবহার করে হুন্ডি এবং অবৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে বিপুল অর্থ পাচার করেছেন। এসব অর্থ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় প্রায় ৫৫ কোটি টাকা মূল্যের দুটি বাড়ি কেনা হয়েছে, যা অবৈধ সম্পদ হিসেবে চিহ্নিত।

যুক্তরাষ্ট্রে জয়ের নামে আটটি বিলাসবহুল গাড়ির তথ্য পাওয়া গেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে মার্সিডিজ-বেঞ্জ এস-ক্লাস, মার্সিডিজ-বেঞ্জ এসএল-ক্লাস, লেক্সাস জিএক্স ৪৬০, ল্যান্ড রোভার রেঞ্জ রোভার, ম্যাকলারেন ৭২০এস, মার্সিডিজ-বেঞ্জ এএমজি জিটি এবং দুটি জিপ গ্র্যান্ড চেরোকি। এসব গাড়ির আনুমানিক মূল্য পাঁচ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বেশি, যার মধ্যে লেক্সাস জিএক্স ৪৬০ তার সাবেক স্ত্রী ক্রিস্টিনা ওভারমায়ারের নামে নিবন্ধিত।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, জয়ের নামে যুক্তরাষ্ট্রে গোল্ডেন বেঙ্গল প্রোডাকশন্স এলএলসি, প্রাইম হোল্ডিং এলএলসি, ওয়াজেদ ইন, অসিরিস ক্যাপিটাল পার্টনারস এলএলসি, ব্লু হেভেন ভেনচারস এলএলসি এবং ট্রুপে টেকনোলজিস এলএলসি নামে ছয়টি কোম্পানির সন্ধান মিলেছে। প্রতিটি কোম্পানির নামে ব্যাংক হিসাব রয়েছে। এছাড়া জয়ের চারটি ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব আছে, যার একটি তার সাবেক স্ত্রী ক্রিস্টিনা ওয়াজেদের সঙ্গে যৌথ। প্রাইম হোল্ডিং এলএলসিতে মুহাম্মদ ফরিদ খান নামে আরেকজনের অংশীদারত্ব রয়েছে। এসব অ্যাকাউন্ট ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে খোলা হয়েছে।

দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বলেন, জয়ের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। শনাক্তকৃত সম্পদগুলো জব্দ করে আদালতে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হতে পারে।

আরও পড়ুন: ‘অন্যায়কারীদের বিচার হোক, আমি তাদের কেউ নই’: টিউলিপ সিদ্দিক

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং ভারতে পালিয়ে যান। জয় দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। গত ১৪ আগস্ট দুদক জয়ের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের মামলা করে, যাতে ৬০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদকের দাবি, ২০০০ থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দুর্নীতির মাধ্যমে এসব সম্পদ অর্জিত এবং পাচার করা হয়েছে।

শেখ হাসিনার পতনের পর দুদক তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছে, যার মধ্যে তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা এবং রেহানার সন্তানরা রয়েছেন। এখন পর্যন্ত ছয়টি মামলায় ২৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট হাসিনা ও তার স্বজনদের ১২৪টি ব্যাংক হিসাবে ৬,৩৫০ কোটি টাকা ফ্রিজ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *