বিএনপিকে-মির্জা ফখরুল-newsedge24

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারকে ‘ডাহা মিথ্যা’, ‘মনগড়া’ এবং ‘এআই-জেনারেটেড ফেক নিউজ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে দলটি। কলকাতা-ভিত্তিক বাংলা দৈনিক ‘এই সময়’-এ প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারে বিএনপি ও জামায়াতকে একই স্তরে রাখার ভারতীয় অবস্থানের সমালোচনা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়, যা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চক্রান্ত। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল নিউইয়র্ক থেকে সরাসরি অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো কলকাতা-ভিত্তিক মিডিয়াকে সাক্ষাৎকার দেননি এবং এমন ‘অযৌক্তিক’ বক্তব্য কখনো দেননি।

আজ বুধবার দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গতকাল ‘এই সময়’-এ ‘নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে চান ফখরুল’ শিরোনামে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং কল্পনাপ্রসূত। এতে বিএনপি মহাসচিব কোনো বিদেশি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেননি বলে স্পষ্ট করা হয়েছে। দলের মতে, এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা প্রচার বাংলাদেশের জনগণের মনে সন্দেহ ও সংশয় তৈরি করার জন্য। বিএনপি নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে সতর্কবাণী জারি করেছে দলটি।

সাক্ষাৎকারে ফখরুলকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, জামায়াত বিএনপির কাছে ৩০ আসনের দাবি করেছে এবং প্রাণতন্ত্রের ব্যাপারে চাপ সৃষ্টি করছে। এছাড়া ভারতের প্রভাব হ্রাসের প্রসঙ্গে মন্তব্য করা হয়েছে। কিন্তু মির্জা ফখরুল নিউইয়র্ক থেকে ইউএনবি-কে বলেন, “ওই খবর ফেক! তারা এআই ব্যবহার করে এই মিথ্যা রিপোর্ট তৈরি করেছে। কোনো রাজনৈতিক নেতা এমন অযৌক্তিক কথা বলতে পারেন না।” তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফরে মুখ্য উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে জাতিসংঘের ৮০তম অধিবেশনে অংশ নিচ্ছেন। বিএনপির ফেসবুক পেজেও পোস্ট করে বলা হয়েছে, “এই সময়-এ প্রকাশিত বক্তব্যগুলো তিনি কখনো বলেননি।”

এরপরে জামায়াতে ইসলামীর মহাসচিব মিয়া গোলাম পারওয়ারও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বিবৃতিতে বলেন, এমন ‘মিথ্যা, অসম্মানজনক ও প্রতিহিংসামূলক’ মন্তব্য ফখরুলের মতো সিনিয়র নেতার পক্ষে অসম্ভব। যদি সত্যি হয়, তাহলে প্রতিবাদ করবেন। জামায়াত প্রমাণ দাবি করেছে যে তারা ৩০ আসন চেয়েছে। অন্যদিকে, ন্যাশনাল সিটিজেন্পার্টি (এনসিপি)-র কনভেনার নাহিদ ইসলামও বিএনপিকে সতর্ক করেছেন, আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা বিপর্যয় ডেকে আনবে।

আরও পড়ুন: নির্বাচনে কোনো প্রার্থীকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়নি: রিজভী

বিএনপির এই প্রতিবাদ রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। দলটি জানিয়েছে, এই ধরনের ফেক নিউজ ও মিডিয়া ম্যানিপুলেশন বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সংবেদনশীলতা বাড়াতে পারে। বিএনপি নেতারা দেশের জনগণকে সত্য তথ্যের ভিত্তিতে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *