গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫-এর খসড়া অনুমোদন করেছে, যেখানে মামলায় পলাতক আসামিদের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ বন্ধ করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এই সংশোধনীর ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর, ২০২৫) ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ ব্রিফিংয়ে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধন) অধ্যাদেশে এমন বিধান যুক্ত করা হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো মামলায় আদালত কর্তৃক পলাতক ঘোষিত হন, তবে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, “পলাতক বলতে বোঝায়, আদালত যখন কাউকে পলাতক ঘোষণা করেন। অর্থাৎ, আদালতের নির্দেশে হাজির হওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হলেও যিনি হাজির হন না এবং বিচার চলাকালীন পলায়ন করেন, তিনি পলাতক হিসেবে বিবেচিত হবেন।”

এর আগে, চলতি মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে সংশোধনী আনা হয়েছে। সেই সংশোধনী অনুযায়ী, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারও বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল হলে তিনি জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। এই নতুন সংশোধনী এই বিধানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

গত বছরের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বেশ কয়েকটি মামলা চলমান রয়েছে। এসব মামলায় আওয়ামী লীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) অনেক নেতার বিচার চলছে। অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হলে দলটির বহু নেতা, যাঁদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরাও রয়েছেন, আত্মগোপনে চলে গেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, হত্যা, হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। এই নেতারা যদি আদালত থেকে পলাতক ঘোষিত হন, তবে তাঁরা ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না।

এই সংশোধনী নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া, এটি বিচার বিভাগ ও নির্বাচন ব্যবস্থার মধ্যে স্বচ্ছতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আরেকটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ এখন সুপ্রিম কোর্টের হাতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *