জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ করেছে সংগঠনটি। শুক্রবার জুমার নামাজের পর থেকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থী ও জনতা শাহবাগে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে শাহবাগ মোড় দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
অবরোধ থেকে সংগঠনের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ঘোষণা দেন, খুনিদের গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। তিনি বলেন, “সরকারকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছিলাম। সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এখন লাগাতার আন্দোলন চলবে। সরকার ওসমান হাদির নিরাপত্তা দিতে পারেনি। খুনিদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত সরকার পদত্যাগও করতে পারবে না। পদত্যাগ কোনো সমাধান নয়, খুনিদের গ্রেপ্তারই একমাত্র সমাধান। প্রয়োজনে জীবন দিয়েও অবস্থান ধরে রাখব।”
সন্ধ্যায় জাবের আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা শাহবাগে এসে জনগণের সামনে জবাবদিহি না করা পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। তিনি বলেন, “এই জমিন শহীদ ওসমানের রক্তে ভিজেছে। অথচ একদল লোক আমাদের ওপর খবরদারি করতে চায়। আমরা দেখছি, তারা ক্যান্টনমেন্টে হাজিরা দেন, কিন্তু রাজপথের যোদ্ধাদের উপেক্ষা করেন। আর উপেক্ষা করা চলবে না। যতদিন একজন নারী হিজাব পরে স্বাধীনভাবে চলাচলের নিশ্চয়তা না পাবে, ততদিন প্রকৃত স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে মনে করব।”
শহীদ হাদির ভাই শরিফ ওমর বিন হাদি বলেন, “সরকারের অবস্থা দেখে বোঝা যায়, বিচার নিয়ে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। ওসমান হাদির বিচার এখন ১৮ কোটি মানুষের দাবি। বিচার না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরব না। প্রয়োজনে আরও কঠিন কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হব। রাষ্ট্রের পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আগে বলে দিতে চাই, আমাদের ক্যান্টনমেন্ট বা যমুনা ঘেরাও করতে বাধ্য করবেন না।”
রাত ৯টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসে বলা হয়, “ইনকিলাব মঞ্চ রাতভর শাহবাগে অবস্থান করবে। আপনিও চলে আসুন।” পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মিছিলে যোগ দিয়ে সংহতি প্রকাশ করছেন। শাহবাগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সদস্য মোতায়েন থাকলেও বিক্ষোভকারীরা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: হাদি হত্যার বিচার দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের শাহবাগ অবরোধ
শরিফ ওসমান হাদি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা এবং ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর পুরানা পল্টনে গুলিবিদ্ধ হন। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।



















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































