স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ-01099-NewsEdge24

দেশে যৌথ অভিযানের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব ও আনসার বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং মাদক নিরসনে এ কার্যক্রম প্রতিনিয়ত চলছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও জোরদার করা হবে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় আনসার ও ভিডিপির নতুন সদর দপ্তর নির্মাণের ‘শুভারম্ভ ফলক’ উন্মোচন শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির একটি সুপরিকল্পিত ও উপযুক্ত স্থানে নিজস্ব সদরদপ্তর স্থাপনের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে যাচ্ছে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৩.৪২৮ একর বা প্রায় ১১ বিঘা জমি আনসার বাহিনীর সদর দপ্তর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

বর্তমানে খিলগাঁও থেকে পরিচালিত আনসার সদরদপ্তরের অপরিসর জায়গায় স্থান সংকুলান হচ্ছে না। যাতায়াত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এসব সমস্যা দূর করতে তেজগাঁওয়ে একটি আধুনিক ও বৃহৎ অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে বলে তিনি জানান। নতুন সদর দপ্তর নির্মাণের ফলে আনসার বাহিনীর কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সমন্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ২০ হাজার ব্যাটালিয়ন আনসার এবং ৬০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার রয়েছে। এ ছাড়া ৩৫ হাজার ভিডিপি দলনেতার অধীনে প্রায় ৬০ লাখ প্রশিক্ষিত জনশক্তি রয়েছে। নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে এটি দেশের সর্ববৃহৎ ফোর্স। কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যদের আবাসন সংকট নিরসনে ঢাকার আশুলিয়া ও শেরেবাংলা নগরে অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন জাতীয় সংকট ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনসার বাহিনীর অবদানের প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাদের আর্থিক ও অন্যান্য পর্যায়ক্রমিক দাবি-দাওয়া পূরণে সরকারের অঙ্গীকার রয়েছে। আনসার সদস্যদের কল্যাণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং তাদের দাবিগুলো ধাপে ধাপে পূরণ করা হবে।

বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিষয়ে তিনি বলেন, কারও দায়িত্বে অবহেলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে শুধু প্রত্যাহার নয়, যথাযথ বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ক্রিমিনাল অফেন্সের মামলাও করা হচ্ছে। কোনো সদস্য আইনের লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

আরও পড়ুন: মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে সমন্বয়হীনতা, তদন্তের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস; এই মাসে কোনো অপশক্তি দেশে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারবে না।’ ডিসেম্বর মাসকে তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেন এবং দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সকল বাহিনীর সমন্বিত ভূমিকার ওপর জোর দেন।

ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার চালু হয়েছে। এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে এবং রাস্তায় যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরছে। এ ছাড়া রাস্তা খনন ও নির্মাণকাজের কারণে যানজট এড়াতে পুরো রাস্তা একসঙ্গে না কেটে খণ্ড খণ্ডভাবে কাজ শেষ করে দ্রুত পুনর্নির্মাণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ পিএসসি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *