এনসিপি যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার-newsedge24

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওঠা নৈতিক স্খলনের অভিযোগের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে। মঙ্গলবার (১৭ জুন) বেলা আড়াইটার দিকে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

নোটিশে বলা হয়েছে, সারোয়ার তুষারের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ উঠেছে। দলের আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব মো. আখতার হোসেন এ বিষয়ে তার সুনির্দিষ্ট অবস্থান ও ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছেন। তাকে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দলের রাজনৈতিক পর্ষদ ও গঠিত তদন্ত কমিটির কাছে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে এনসিপির সব সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

গত সোমবার (১৬ জুন) সারোয়ার তুষারের সঙ্গে এনসিপির একজন কেন্দ্রীয় নেত্রীর কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর ফেসবুকে ৩ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের একটি অডিও প্রকাশ করেন, যা ৪৭ মিনিটের কথোপকথনের অংশ বলে দাবি করেন। এই অডিওতে সারোয়ার তুষারের বিরুদ্ধে ওই নেত্রীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ ওঠে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। কেউ কেউ তাকে হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত করেন।

সারোয়ার তুষার দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে যে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ চলছে, তা পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, “দলের কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। তবু যেহেতু এটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসেছে এবং আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে, তাই দল কারণ দর্শানোর নোটিশের মাধ্যমে আমার কাছে বিষয়টি জানতে চেয়েছে। আমি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দলের কাছে লিখিতভাবে আমার অবস্থান ব্যাখ্যা করব।”

এনসিপির বিজ্ঞপ্তিতে অডিও ফাঁসের বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। তবে দলের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, ভাইরাল অডিওর কারণে সৃষ্ট তীব্র বিতর্কই এই নোটিশের মূল কারণ। দলটি এ বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, যা বাংলাদেশের প্রথম ছাত্রনেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর ছাত্র বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে এটি গঠিত হয়। দলটি একটি “দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র” প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে এবং নিজেদের কেন্দ্রীয় ও বহুদলীয় রাজনীতির প্রবক্তা হিসেবে ঘোষণা করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *