আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-newsedge24

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ৩০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করেছে। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল ২৬ জন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছে এবং ১০ জুলাই ২০২৫-এর মধ্যে গ্রেফতারের অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছে।

অভিযুক্ত ৩০ জনের মধ্যে চারজন—পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী আকাশ—অন্য মামলায় গ্রেফতার রয়েছেন। তাদের এই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে, ট্রাইব্যুনাল-১ আমির ও সুজনকে ১৮ জুন এবং শরিফুল ও ইমরানকে ১৯ জুন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছিল।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ (২৫) পুলিশের গুলিতে নিহত হন। তিনি আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন। নিরস্ত্র অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়, যা কোটা সংস্কার আন্দোলনকে আরও গতিশীল করে। এই ঘটনা ৫ আগস্ট ২০২৪-এ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও ভারতে পলায়নের পটভূমি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তদন্ত সংস্থা ২৪ জুন ২০২৫-এ প্রসিকিউশনের কাছে ৩০ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করে ট্রাইব্যুনাল-২-এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।” চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আজ শুনানি পরিচালনা করেন, এবং অন্য প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তদন্ত প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তারা অভিযোগ করেছে, গণশুনানি বা প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য ছাড়াই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ২৬ জুন তারা ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল।

ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য ১০ জুলাই ২০২৫ তারিখ নির্ধারণ করেছে। এই মামলা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার মামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা জুলাই বিদ্রোহের সময় সংঘটিত নৃশংসতার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *