রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েন। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে, এবং এখনো তারা কলেজের একটি কনফারেন্স কক্ষে আটকা পড়ে আছেন।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপদেষ্টারা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের হায়দার আলী ভবন পরিদর্শনে যান। গত সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে বিমানবাহিনীর এফটি-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২৭ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থী। এই ঘটনার পর জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়, এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তদন্তের নির্দেশ দেন। কিন্তু শিক্ষার্থীদের মনে ক্ষোভের আগুন জ্বলছিল। তারা মনে করছেন, সরকার নিহত ও আহতদের সঠিক তথ্য গোপন করছে এবং দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
পরিদর্শন শেষে উপদেষ্টারা ভবন থেকে বের হওয়ার সময় শত শত শিক্ষার্থী তাদের ঘিরে ধরে। ‘ভুয়া ভুয়া’, ‘তথ্য গোপন বন্ধ করো’, ‘শিক্ষকদের ওপর হামলার জবাব দাও’—এমন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে দিয়াবাড়ি এলাকা। শিক্ষার্থীরা উপদেষ্টাদের গাড়িতে ওঠার পথ আটকে দেয়, ফলে তারা কলেজের ৫ নম্বর ভবনের একটি কনফারেন্স কক্ষে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের কারণ
শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। তারা অভিযোগ করেন:
- তথ্য গোপন: নিহত, আহত ও নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের সঠিক সংখ্যা ও পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। কিছু পরিবার এখনো তাদের সন্তানদের খুঁজে পায়নি।
- এইচএসসি পরীক্ষা পেছানোর বিলম্ব: দুর্ঘটনার পরও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পেছানোর ঘোষণায় দেরি হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
- শিক্ষক ও অভিভাবকদের ওপর হামলা: সোমবার রাতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের ওপর সেনাসদস্যদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীরা এর জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
- ছয় দফা দাবি: শিক্ষার্থীরা ছয় দফা দাবি তুলে ধরেছেন, যার মধ্যে রয়েছে নিহতদের সঠিক তথ্য প্রকাশ, আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা, শিক্ষকদের ওপর হামলার জন্য ক্ষমা চাওয়া, ক্ষতিপূরণ, পুরোনো বিমান বাতিল এবং দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত।
বর্তমান পরিস্থিতি
বর্তমানে ড. আসিফ নজরুল, অধ্যাপক সি আর আবরার এবং শফিকুল আলম মাইলস্টোনের কনফারেন্স কক্ষে অবরুদ্ধ রয়েছেন। ৫-৭ জন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি তাদের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছেন। বাইরে শত শত শিক্ষার্থী ভবনের চারপাশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। দিয়াবাড়ি গোলচত্বরে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে, এবং শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধের হুমকি দিয়েছেন।
বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র্যাব এবং সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। তবে শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিরোধের কারণে উপদেষ্টাদের বের করে আনা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত অবরোধ তুলে নেবে না।
আরও পড়ুন: মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৭ জন নিহত, চিকিৎসাধীন ৭৮
সোমবার দুপুর ১টা ৬ মিনিটে কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের পর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এফটি-৭ বিজিআই বিমানটি মাইলস্টোন স্কুলের দোতলা ভবনে বিধ্বস্ত হয়। এতে পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মোহাম্মদ তৌকির ইসলামসহ ২৭ জন নিহত হন, যাদের ২৫ জনই শিশু। ৭৮ জন আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিমানবাহিনী তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, এবং প্রাথমিকভাবে যান্ত্রিক ত্রুটিকে দায়ী করা হচ্ছে।






















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































